চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের প্রভাব বিশ্বকাপেও পড়েছে বলে দাবি ইরান শিবিরের। নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে দলটির প্রস্তুতি ব্যাহত হয়েছে। শুরুতে অনুশীলন ক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্রের বদলে মেক্সিকোতে আয়োজনের পরিকল্পনা করা হলেও শেষ পর্যন্ত সেটি বাস্তবায়ন হয়নি। পাশাপাশি ইরানের বেশ কয়েকজন সাপোর্ট স্টাফ যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা না পাওয়ায় দলটি অতিরিক্ত সমস্যায় পড়ে।
সিয়াটলে মিসরের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ঘালেনি বলেন, "স্বাগতিক দেশ আমাদের সঙ্গে ন্যায়সঙ্গত আচরণ করেনি। আমি ফিফার প্রতি আহ্বান জানাই, ভবিষ্যতে কোনো বিশ্বকাপে যেন কোনো আয়োজক দেশ কোনো দল বা খেলোয়াড়ের সঙ্গে এমন আচরণ করতে না পারে।"
বিশ্বকাপের আগে ইরানের পরিকল্পনা ছিল প্রতিটি ম্যাচের দুই দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে খেলা শেষে আবার মেক্সিকোতে ফিরে যাওয়া। কিন্তু পরে ফিফা সেই পরিকল্পনা পরিবর্তন করে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ম্যাচের দিনই যুক্তরাষ্ট্রে এসে খেলা শেষ করে একই দিন ফিরে যেতে হতো ইরানকে। ব্যাপক সমালোচনার মুখে পরে ফিফা সিদ্ধান্তটি পরিবর্তন করলেও ততক্ষণে দলের প্রস্তুতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
ঘালেনির ভাষ্য, এই অনিশ্চিত ভ্রমণসূচি খেলোয়াড়দের মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। তিনি বলেন, "আমাদের যদি দুই সপ্তাহ আগে আয়োজক দেশে গিয়ে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হতো, তাহলে আমরা আরও ভালোভাবে নিজেদের তৈরি করতে পারতাম। শারীরিক ও মানসিক—দুই দিক থেকেই আমরা এগিয়ে থাকতাম। কিন্তু সেই ন্যায্য সুযোগ থেকে আমাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। শুরুতে মনে হয়েছিল আমরা শুধু অবহেলিত একটি দল। এখন মনে হচ্ছে দুর্ভাগ্যও যেন আমাদের পিছু ছাড়ছে না।"
গ্রুপ পর্বে নিউজিল্যান্ড, বেলজিয়াম ও মিসরের বিপক্ষে টানা তিনটি ড্র করেছে ইরান। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুইবার পিছিয়ে থেকেও ২-২ গোলে সমতা ফেরায় তারা। বেলজিয়ামের বিপক্ষে একটি গোল বাতিল হলেও ম্যাচটি গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ হয়। আর শেষ ম্যাচে মিসরের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে গ্রুপ 'জি'-তে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইরান। তবুও শেষ ৩২-এ ওঠার সম্ভাবনা এখনও টিকে আছে তাদের।
সব প্রতিকূলতার মাঝেও খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে গর্বিত ঘালেনি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, "আমি আমার দলকে নিয়ে গর্বিত। এই তরুণ খেলোয়াড়রা যে লড়াই করেছে, তা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এত সমস্যার মধ্যেও তারা নিজেদের সেরাটা দিয়েছে। আমার বিশ্বাস, পুরো বিশ্বই আজ ইরান দলের এই সংগ্রামকে সম্মান জানাবে।"