বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি সুনামগঞ্জ জেলা এবং ভারতের মেঘালয় রাজ্যের চেরাপুঞ্জি এলাকায় রেকর্ড ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে সুরমা নদীসহ জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে হাওরাঞ্চল ও নদীপথে নৌযান চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত জেলার সব হাউসবোট মালিক, চালক ও সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পর্যটক পরিবহনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনাগুলো হলো:
ক. প্রতিকূল আবহাওয়া বা ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে কোনোভাবেই পর্যটক নিয়ে নৌযান যাত্রা করতে পারবে না।
খ. প্রতিটি হাউসবোটে পর্যাপ্ত সংখ্যক মানসম্মত লাইফ জ্যাকেট, লাইফবয়া ও অন্যান্য জরুরি উদ্ধার সরঞ্জাম রাখতে হবে।
গ. নৌযানে অতিরিক্ত যাত্রী বহন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ঘ. আবহাওয়া অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া সতর্কবার্তা নিয়মিত অনুসরণ করতে হবে।
ঙ. যাত্রার শুরুতেই পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নির্দেশনা ও করণীয় সম্পর্কে অবহিত করতে হবে।
চ. জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করতে হবে।
ছ. পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে বা স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজন মনে করলে হাউসবোট চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশনা প্রদান করা হলে তা অবিলম্বে বাস্তবায়ন করা হবে।
জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মতিউর রহমান খান বলেন, বর্তমান বন্যা পরিস্থিতিতে পর্যটকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। সে কারণেই হাওরাঞ্চলে পর্যটক পরিবহনের ক্ষেত্রে এই সতর্কতামূলক নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, হাউসবোট মালিক ও চালকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনাগুলো কঠোরভাবে অনুসরণ করার আহ্বান জানাচ্ছি। নদীর পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের ঝুঁকি নেওয়া যাবে না। প্রশাসন সার্বিক পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে।