বুলবুল জানান, ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে দেশ মাতৃকার টানে তিনি ঘরে বসে থাকতে পারেননি। রক্তস্নাত জুলাইয়ের উত্তাল দিনগুলোতে ফেনীর ছাত্র-জনতার মিছিলে শামিল হয়েছিলেন তিনি। গত ৪ আগস্ট মহিপাল সার্কিট হাউজ রোডের আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সামনে অবস্থানকালে চারদিক থেকে আসা আওয়ামী সন্ত্রাসীদের ছোড়া এলোপাতাড়ি গুলিতে তার ডান পায়ে তিনটি বুলেট আঘাত হানে। সে সময় প্রতিকূল পরিস্থিতিতে প্রাথমিক চিকিৎসাও নিতে পারেননি তিনি। পরবর্তীতে ধার-দেনা ও নিজস্ব খরচে অপারেশন করে পা থেকে তিনটি বুলেট অপসারণ করেন। এখনো তার হাত, উরু এবং কোমরে পাঁচটি বুলেট রয়ে গেছে। তিনি গেজেটভুক্ত জুলাইযোদ্ধা হলেও চিকিৎসা সুবিধা পাচ্ছেন না।
দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর সংসার চালাতে বাধ্য হয়ে রিকশা চালানো শুরু করেন তিনি। জুলাই আন্দোলনে প্রাপ্ত সহায়তার টাকা দিয়ে একটি অটোরিকশা রিকশা কিনলেও, শরীরে থাকা বুলেটের যন্ত্রণায় তা চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে তার জন্য। খুলনা মহানগরের ১৯নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা বুলবুল জীবিকার তাগিদে ১৯৯৮ সালে ফেনীতে আসেন। বর্তমানে তিনি মহিপালের বড় বাড়িতে সপরিবারে ভাড়া বাসায় থাকেন। এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক বুলবুল এখন দিশেহারা। টাকার অভাবে পড়াতে পারছেন না সন্তানদের। মেয়েকে মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়েও হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দিলেও টাকার অভাবে কোনো ব্যবস্থা করতে পারছেন না।
বুলবুল বলেন, ‘হাত, উরু আর কোমরে বুলেট থাকায় রিকশা চালাতে খুব কষ্ট হয়। কিন্তু বসে থাকলে পরিবার না খেয়ে থাকবে। সরকারের কাছে আমার আকুল আবেদন, দয়া করে আমার চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন যাতে আমি সুস্থ হয়ে সন্তানদের মুখে অন্ন তুলে দিতে পারি।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ফেনীর সাবেক ছাত্র প্রতিনিধি ওমর ফারুক শুভ বলেন, ‘এই সরকার ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের ত্যাগের ফসল। বুলবুলের মতো যারা জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছেন, তাদের চিকিৎসার দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। একজন জুলাই যোদ্ধা চিকিৎসার অভাবে ধুঁকে ধুঁকে মরবে এটা মেনে নেওয়া যায় না।’
সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এলে হয়তো আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন এই যোদ্ধা। শরীর থেকে বুলেটগুলো সরিয়ে সুস্থভাবে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা চান বুলবুল আহমেদ।