শ্রীপুর উপজেলার গোসিঙ্গা ইউনিয়নের হায়েতখারচালা গ্রামে প্রায় এক একর জমিজুড়ে এ মরিচের চাষ করা হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, সর্বোচ্চ দুই ফুট উচ্চতার গাছে ঝুলছে ১২ থেকে ১৪ ইঞ্চি লম্বা ঝাল মরিচ। অধিক ফলনের কারণে গাছগুলোকে খুঁটির সাহায্যে বেঁধে রাখতে হয়েছে। প্রতিটি গাছে গড়ে ৩০ থেকে ৪০টি মরিচ ধরেছে।
উদ্যোক্তা চীনা নাগরিক ছেন জিয়েন গাও এই মরিচ চাষের মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছেন। “চাপাই-কোপাই” নামের এই মরিচ ইন্দোনেশিয়ায় জনপ্রিয় এবং চাইনিজ রেস্তোরাঁগুলোতে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
খেতের পরিচর্যাকারী শ্রমিক আরিফ হোসেন জানান, “এই নাগরিক তার দেশের বিভিন্ন সবজি এখানে চাষ করছেন। তবে সবচেয়ে বেশি সফলতা এসেছে এই মরিচে। অল্প জায়গা থেকেই দুই থেকে আড়াই মণ মরিচ পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিদিনই অনেক মানুষ এই খেত দেখতে আসেন।”
উদ্যোক্তা ছেন জিয়েন গাও বলেন, “বাংলাদেশের মাটি অত্যন্ত উর্বর। এখানে চাষ করে আমরা লাভবান হচ্ছি। উৎপাদিত সবজি আমরা খোলা বাজারে বিক্রি করি না, নিজেদের রেস্তোরাঁয় ব্যবহার করি।” তিনি আরও জানান, বর্তমানে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করা হলেও ভবিষ্যতে বৃহৎ পরিসরে চাষের পরিকল্পনা রয়েছে।
জমির মালিক আতিকুর রহমান প্রধান বলেন, “আমার কাছ থেকে এক একর জমি লিজ নিয়ে চাষ করা হয়েছে। সফলতা পাওয়ায় তারা আরও জমি নেওয়ার আগ্রহ দেখাচ্ছেন।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বলেন, “চাপাই-কোপাই মরিচ এলাকায় ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। এটি দেখতে ক্যাপসিকামের মতো হলেও ঝাল অনেক বেশি। চাইনিজ রেস্তোরাঁয় এর চাহিদা থাকায় এটি একটি লাভজনক ফসল হতে পারে।”
তিনি আরও জানান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে চাষিকে নিয়মিত কারিগরি সহায়তা, পোকামাকড় ও রোগবালাই দমনে পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। বাংলাদেশের মাটিতে এ মরিচের সফল উৎপাদন কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।