ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের গোবিন্দনগর মুন্সিহাট এলাকার ইজিবাইকচালক রমজান আলীর বড় ছেলে শরিফ। পরিবারের আর্থিক অবস্থা তেমন ভালো নয়, তবুও বাবা-মা চেষ্টা করেছেন ছেলের পড়াশোনার চালিয়ে যাওয়ার। ছোটবেলায় মা মুখে মুখে তাকে পাঠ দিতেন, আর শরিফও আশ্চর্য দ্রুততায় মুখস্থ করে নিত। গোবিন্দনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি শেষ করে ২০২১ সালে ভর্তি হন ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ে। এবার সেখান থেকেই তার এসএসসি পরীক্ষায় বসার কথা। আগামী ২১ এপ্রিল শুরু হবে পরীক্ষা।
নীতিমালা অনুযায়ী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় একজন শ্রুতলেখক আবশ্যক। অষ্টম শ্রেণি পাস কোনো শিক্ষার্থী শ্রুতলেখক হিসেবে কাজ করতে পারেন। কিন্তু অসংখ্য চেষ্টা করেও শরিফ আজও কাউকে পাননি।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্ট দিয়েছেন তিনি। পোস্টে তিনি লিখেন, আমি একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী। স্বপ্ন আছে, ইচ্ছা আছে কিন্তু নিজের হাতে লিখে পরীক্ষা দেওয়ার সক্ষমতা নেই। তাই আমার জন্য একজন রাইটার (শ্রুতলেখক) প্রয়োজন। তবে কি শুধুমাত্র একজন রাইটার না পাওয়ার কারণে আমার এসএসসি পরীক্ষার স্বপ্ন ফিকে হয়ে যাবে? কেউ কি আছেন, মানবিকতার জায়গা থেকে আমার পাশে দাঁড়াবেন? আপনাদের মতো আমারও ইচ্ছা পড়াশোনা করে দেশের জন্য কিছু করা। আপনাদের সামান্য সহযোগিতাই আমার জীবনের বড় স্বপ্ন পূরণ করতে পারে।
তিনি বলেন, আমার চিকিৎসায় বাবা-মা অনেক টাকা খরচ করেছেন। ভালোভাবে পড়াশোনা করে যদি চাকরি পাই, তাদের কষ্টের কিছুটা শোধ করতে পারব। কিন্তু রাইটার না পেলে তো পরীক্ষায় বসাই যাবে না এটাই ভয় লাগছে।
শরিফের মা সফুরা বেগম বলেন, দৃষ্টি নেই, কিন্তু পড়ার প্রতি শরিফের আগ্রহ দেখে আমরা সব সময় সাহস পাই। এখন শুধু একজন লেখক না পাওয়ায় তার পরীক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে এটা ভাবতেই বুক ভেঙে যায়।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মতাহার উল আলম বলেন, আমরা শরিফকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি। সে নিজে না পেলে পরীক্ষা শুরুর আগেই আমরা একজন শ্রুতলেখকের ব্যবস্থা করে দেব