একই সাথে উদ্ধার করা হয়েছে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও লুণ্ঠিত মালামাল।
ঘটনার সূত্রপাত ও তদন্ত
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বেশ কিছুদিন যাবত একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্র মোটরসাইকেল যোগে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন নির্জন স্থানে নারীদের টার্গেট করে স্বর্ণালংকার, মোবাইল ও টাকা-পয়সা ছিনতাই করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ০৩ মে, ২০২৬ তারিখে শ্রীমঙ্গল থানার রূপসপুর এলাকায় মোটরসাইকেল আরোহী ছিনতাইকারীরা একটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পরপরই শ্রীমঙ্গল থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) মোঃ মহিবুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ টিম মাঠে নামে। কোনো ক্লু না থাকা সত্ত্বেও পুলিশ তথ্য-প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং সংলগ্ন এলাকার বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ গভীরভাবে পর্যালোচনা ও যাচাই-বাছাই শুরু করে।
অভিযান ও গ্রেফতার
দীর্ঘ পর্যালোচনার পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৮ মে, ২০২৬ তারিখ ভোর রাত ০৪:৩০ ঘটিকায় সিলেট শহরের জালালাবাদ থানা এলাকার আখালিয়া গেটের একটি নির্জন বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে ছিনতাইকারী চক্রের মূল হোতাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামীর পরিচয়:
খালেদ আহমেদ (৩৪), পিতা- বাশির মিয়া, সাং- গৌরাবাড়ি, থানা- গোলাপগঞ্জ, জেলা- সিলেট।
উদ্ধারকৃত আলামত
গ্রেফতারের পর আসামীর হেফাজত থেকে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত ও লুণ্ঠিত নিম্নলিখিত মালামাল উদ্ধার করা হয়:
ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও হেলমেট
নগদ টাকা
মোবাইল ফোন
ভিকটিমের পার্স ও ব্যাগ
পুলিশের বক্তব্য ও বর্তমান অবস্থা
শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামী খালেদ আহমেদ একজন পেশাদার ছিনতাইকারী। সে ও তার একাধিক সহযোগী মিলে দীর্ঘদিন ধরে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন থানা এলাকায় সাধারণ মানুষকে সর্বস্বান্ত করে আসছিল।
গ্রেফতারকৃত আসামীকে ইতিমধ্যে যথাযথ প্রক্রিয়ায় বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এলাকায় চুরি, ছিনতাই প্রতিরোধ এবং মাদক উদ্ধারে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের এই চিরুনি অভিযান ও কঠোর কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।