সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেের টয়লেট থেকে মঙ্গলবার (০৭ এপ্রিল) দুপুরে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সে আমিরাবাদ ইউনিয়নের সোনাপুর-তিবাড়িয়া রহমত নগর গ্রামের মৃত খায়েজ আহমদের ছেলে।
পুলিশ জানায়, নিহত কিশোর মো. শামীম (১৫) সোনাগাজী সদর ইউনিয়নের চরশাহাপুর গ্রামের নতুন মিঝি বাড়ির আবদুল মুনাফের ছেলে।
২০১৯ সালের ১১ আগস্ট রাত অনুমান আটটার দিকে সিএনজি অটোরিকশা যোগে নানার বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সোনাপুর তিন বাড়িয়াস্থ সাইফুলের চা দোকানের সামনে সিএনজি অটোরিকশার গতি রোধকরে জোরপূর্বক শামীমকে নামান সন্ত্রাসীরা।
এসময় ছাত্রলীগ থেকে বহিস্কৃত হত্যা সহ একাধিক মামলার আসামি সাঈদ আনোয়ার, শেখ আলম, পারভেজ, নুর আলম, রিয়াদ, শেখ বাহার, নুর নবী, মো. হানিফ, কাজী, জাহেদ, বেলাল হোসেন ও নুর করিম মিস্ত্রি সহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী শামীমকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করেন।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সোনাগাজী, পরে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি এবং সেখান থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহত কিশোর শামীমের মা আনোয়ারা বেগম সাফিয়া বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ১০-১৫জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করলে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলেও আসামিরা থাকেন ধরাচোঁয়ার বাইরে। মঙ্গলবার সকালে দাবিকৃত চাঁদা না পেয়ে নুর আলম, শাহাজাহান উদ্দিন সারু ও ফরহাদের নেতৃত্বে ৪-৫ জন দুর্বৃত্ত রাকিব হোসেন (২২) নামে এক রাজমিস্ত্রিকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে শাহাজাহান উদ্দিনের চা দোকানে মধ্যযোগীয় কায়দায় হত্যার চেষ্টা চালান। আহত রাজমিস্ত্রি রাকিবকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেে ভর্তি করেন। হাসপাতালে গিয়ে তাকে চিকিৎসা করাতে বাধা দেন নুর আলম ও তার সহযোগী সন্ত্রাসীরা। খবর পেয়ে সোনাগাজী মডেল থানার পুলিশদল ঘটনাস্থলে গেলে নুর আলম হাসপাতালের টয়লেটে ঢুকে পড়েন। পুলিশ সেখান থেকে তাকে গ্রেফতার করেন।
সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।