শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।
আনুষ্ঠানিকতা শেষে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। এরপর তিনি পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করে ১১ টা ৪৭ মিনিটে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গন ত্যাগ করেন।
এসময়, জাতীয় স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে আবেগঘন মন্তব্য লিখেছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম।
পরিদর্শন বইয়ে তিনি লেখেন, "বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম। জাতীয় স্মৃতিসৌধে এসে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পেরে আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি।"
তিনি উল্লেখ করেন, বীর শহীদদের সর্বোচ্চ ত্যাগ ও অসীম দেশপ্রেমের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় স্মৃতিসৌধকে তিনি জাতির গৌরব, আত্মত্যাগ, ঐক্য ও দেশপ্রেমের চিরন্তন প্রতীক হিসেবে অভিহিত করেন।
মন্তব্যে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। পাশাপাশি তিনি আশা প্রকাশ করেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সংবিধানের আদর্শ এবং শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা সমুন্নত রেখে একটি শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ, ন্যায়ভিত্তিক ও উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে।
পরিদর্শন বইয়ের শেষাংশে তিনি মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে বীর শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের অব্যাহত শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে "বাংলাদেশ জিন্দাবাদ" লিখে তাঁর মন্তব্য শেষ করেন।
এর আগে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে স্মৃতিসৌধে এসে পৌঁছান এবং তিন বাহিনীর প্রধানসহ উপস্থিত অন্যান্য কর্মকর্তাদের সাথে কুশলাদি বিনিময় করেন।
এ সময় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনসহ রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিবগণ,সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা,সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন আনুসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।