ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে মহিলাসহ পরিবারের লোকজন বাড়িতে উঠতে পারছে না। পরিবারে যারা শিক্ষার্থী রয়েছে তারা স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসায় যেতে পারছে না। এমনকি মহিলা, শিশু বা আত্মীয়-স্বজন কেউ তাদের বাড়িতে আসলে হুমকি-ধামকি দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা আরও অভিযোগ করেন, হত্যা মামলায় নিরীহ মানুষের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। যারা ঘটনার সময় ঢাকায় কর্মস্থলে চাকরিরত ছিলেন, তাদের নামেও মামলা দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের একজন মো: শাহানশা মোল্লা জানান, মিরচাঁন হত্যার দিন তিনি ঢাকায় তার অফিসে কর্মরত ছিলেন। সিসি ফুটেজে সেদিনের সেই ভিডিও রয়েছে।
তারপরও তার নামে মামলা করা হয়েছে। তিনি দুঃখ করে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে এসব কথা বলেন।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
মিরচাঁন হত্যার সুষ্ঠু বিচার এবং হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে নিরীহ মানুষের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাটের যে অভিযোগ উঠেছে সে বিষয়ে তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, ভাঙচুর, লুটপাটের ঘটনায় লোহাগড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ৮ সেপ্টেম্বর স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার এবং পূর্ববিরোধের জের ধরেয় প্রতিপক্ষের লোকজন মিরচাঁন সরদার (৩৭) কে হামলা চালিয়ে হত্যা করে। ভ্যানচালক মিরচাঁন সরদার লোহাগড়া উপজেলার কোটাকোল ইউনিয়নের মাটিয়াডাঙ্গা গ্রামের মৃত লোকমান সরদারের ছেলে। হত্যার ঘটনায় ৩৭ জনকে এজাহার নামীয় আসামি ও কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামি করে লোহাগড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শরিফুল ইসলাম বলেন, মিরচাঁন হত্যা মামলার কয়েকজন আসামিকে তাৎক্ষণিক আটক করা হয়েছে এবং বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনার সাথে যারা জড়িত তাদেরকে ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়াও অপরাধীদের ধরতে ওই এলাকায় বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।