বুধবার (২৪ জুন) দুপুরের দিকে এ বিষয় সাদুল্যাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার ( ভূমি) জসিম উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি।
এর আগে সোমবার (২২ জুল) গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের নির্দেশক্রমে ওই অর্পিত সম্পত্তির সীমানা নির্ধারণের কার্যক্রম পরিচালনা করেন বিতর্কিত দুর্নীতিবাজ সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দিন । তার বিরুদ্ধে সেবা প্রত্যাশীদের অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। ওই অর্পিত সম্পত্তি পরস্পর বিরোধী দুইটি প্রতিবেদনের সূত্র ধরে গত ১৮ জুন যমুনা টিভির গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি জিল্লুর রহমান মন্ডল পলাশ ও সময় টিভির হেদায়েতুল ইসলাম বাবুসহ ৩-৪ জন সাংবাদিক সাদুল্লাপুর উপজেলা ভূমি অফিসে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে তিনি তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং ওই সাংবাদিকদের হেনেস্তাসহ সৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এ ঘটনা নিয়ে চ্যানেল এইটটিনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার ও প্রকাশিত হওয়ার পর বিভাগীয় কমিশনার মোঃ শহিদুল ইসলাম বিষয়টি তদন্ত করেন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন । এর একদিন পর গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক ওই অর্পিত সম্পত্তির সীমানা নির্ধারণ-পূর্বক সাইন বোর্ড ঝুলিয়ে দেন । সরকারি সম্পত্তি ব্যক্তি মালিকানাধীন দেখিয়ে প্রায় তিন কোটি টাকা উত্তোলনের পর আবারো অর্পিত' ক'তফসিলভুক্ত সম্পত্তি দাবি করে জেলা প্রশাসকের সাইনবোর্ড ঝুলানোর বিষয়টি নিয়ে জনমনে দেখা দিয়েছেন নানান প্রশ্ন ?
প্রসঙ্গত ,গাইবান্ধার সাদুল্লাহপুর উপজেলার ৬ নং ধাপেরহাট ইউনিয়নের হাসানপাড়া মৌজার রংপুর- ঢাকা মহাসড়কের ফোরলেন সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের১/১ খতিয়ান ও ২৩৭ বিআরএস খতিয়ানের প্রায় সাড়ে ৬ শতক অর্পিত সম্পত্তি ব্যক্তি মালিকানা দেখানো হয় এবং ওই অর্পিত সম্পত্তির প্রায় তিন কোটি ক্ষতিপূরণের টাকা উত্তোলনের মাধ্যমে তা আত্মসাৎ করা হয় । এতে জেলা প্রশাসকের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখা ও উপজেলা ভূমি অফিসের সংশ্লিষ্টদের যোগসাজসের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে ।
২০২৫ সালে নভেম্বরে পার্শ্ববর্তী পীরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর গ্রামের জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণের প্রায় দুই কোটি ৮০ লাখ ৫৯ হাজার ৯ ৩২ টাকা উত্তোলন করে ভাগ বাটোয়ারা করে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে । তবে ওই সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে আপত্তি দাখিল করেন স্থানীয় আসাদুল্লাহ ফারুকী নামের অপর এক ব্যক্তি। তার দাখিলকৃত আপত্তি পত্র গোপনে রেখে জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর ও তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে টাকা ভাগ বাটোয়ারা করে দেয়া হয় বলে ভুক্তভোগী দাবি করেন।
সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে তৎকালীন সহকারি কমিশনার (ভূমি )ও ইউনিয়নের ভূমি তহসিলদারের প্রতিবেদনে ওই সম্পত্তিতে সরকারি স্বার্থ নেই বলে উল্লেখ করা হয় । কিন্তু ২০২৫ সালে দায়িত্বপ্রাপ্ত তহসিলদার আতিয়ার রহমানের প্রতিবেদনে জমিটি অর্পিত ক তফসিলভুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়। এবং সীমানা নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয় । ভিন্ন ভিন্ন প্রতিবেদনের কারণে মারাত্মক জটিলতা থাকা শর্তেও এবং একাধিক দাবিদার থাকলেও সংশ্লিষ্ট বিভাগ মনগড়া ভাবে জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর ও তার পরিবারের নামে সম্পূর্ণ টাকা উত্তোলন করে ভাগ বাটোয়ারা করেন।
এ বিষয় নিয়ে সঠিক তথ্য জানতে সাংবাদিকরা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দিনের কার্যালয়ে যান। প্রথমেই তিনি মোবাইল ফোন এবং ক্যামেরা টেবিলে রাখতে বলেন। এরপর প্রশ্নের মুখে বুম ও ক্যামেরা দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে সাংবাদিকদের সাথে অসৌজন্য মূলক আচরণ করেন । এমনকি সাংবাদিকের মাইক্রোফোন ও ক্যামেরা ধাক্কিয়ে সরিয়ে দেন । সাংবাদিকদের তার কার্যালয় থেকে বের হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। অসৌজন্যমূলক আচরনের পর দ্রুত সরকারি গাড়িতে উঠে স্থান ত্যাগ করেন তিনি। হেনেস্তার শিকার সাংবাদিকরা জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান মোল্লা সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করে ব্যর্থ হয। অবশেষে সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) মাহমুদুল হাসানকে বিষয়টি অবগত করেন। তিনি বিষয়টি জানার পর সাংবাদিকদের তার কার্যালয় চায়ের আমন্ত্রণ জানিয়ে ফোন কেটে দেন। পরে বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় কমিশনার মোঃ শহিদুল ইসলামের সাথে কথা বলা হলে, তিনি বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করার পরামর্শ দিয়ে ঘটনাটি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন।
২০২৪ সালে ৩ অক্টোবর সাদুল্লাপুরে সহকারী কমিশনার ( ভূমি) হিসেবে যোগদান করেন জসিম উদ্দিন। এরপর ২৪ মার্চ তাকে সিনিয়র সহকারী সচিব পদে পদোন্নতি এবং ২০ এপ্রিল কাউনিয়া উপজেলায় বদলির আদেশ জারি করা হলেও রহস্যজনক কারণে সাদুল্লাপুর ত্যাগ করেনি তিনি। এ নিয়েও নানা আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।