স্মারকলিপিতে বলা হয়, ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম সাহসী বিপ্লবী এবং শিবগঞ্জের কৃতি সন্তান শহীদ প্রফুল্ল চাকীর স্মৃতিকে ধারণ করে নির্মিত ভাস্কর্যটি দীর্ঘদিন ধরে অযত্ন, অবহেলা ও সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভাস্কর্যের কাঠামোগত সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে, পাশাপাশি এর ঐতিহাসিক গুরুত্বও হারিয়ে যেতে বসেছে। এতে নতুন প্রজন্ম দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক গৌরবময় অধ্যায়ের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়।
নেতাকর্মীরা দাবি জানান, ভাস্কর্যটি দ্রুত পুনর্নির্মাণ ও আধুনিকায়নের পাশাপাশি আশপাশের পরিবেশ উন্নয়ন, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, দর্শনার্থীদের বসার ব্যবস্থা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক। একইসঙ্গে এলাকাটিকে একটি ঐতিহাসিক স্মৃতিচর্চা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলারও আহ্বান জানানো হয়।
শিবগঞ্জ উপজেলা জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক সিহাব-উদ-দৌলা বলেন, “শহীদ প্রফুল্ল চাকী শুধু শিবগঞ্জের নন, তিনি সমগ্র জাতির গর্ব। তাঁর আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেম আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করেছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে তাঁর স্মৃতিবিজড়িত ভাস্কর্যটি আজ অবহেলায় নষ্ট হতে বসেছে। দ্রুত সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর সংগ্রামী জীবন ও আত্মত্যাগের ইতিহাস তুলে ধরা জরুরি।”
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে প্রশাসনের দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে জেলা প্রশাসনের সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন আন্দোলনকারীরা।
উল্লেখ্য, ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনের সাহসী বিপ্লবী শহীদ প্রফুল্ল চাকী ভারতীয় উপমহাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নাম। তাঁর জন্ম ও শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত শিবগঞ্জে নির্মিত ভাস্কর্যটি স্থানীয় ইতিহাস-ঐতিহ্যের অন্যতম প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।