স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মে মাসের প্রথম ২০ দিনেই জেলার বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন অন্তত ১৭ জন রোগী।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে দীঘিনালায়। উপজেলাটিতে ৯ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়াও খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় ১ জন, মাটিরাঙ্গা উপজেলায় ৩ জন, রামগড় উপজেলায় ২ জন, মহালছড়ি উপজেলায় ১ জন এবং লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় ১ জন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত জেলায় মোট ৪২ জন ম্যালেরিয়া রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে শুধু দীঘিনালাতেই আক্রান্তের সংখ্যা ২৩ জন, যা জেলার মোট আক্রান্তের অর্ধেকেরও বেশি। ফলে উপজেলাটিকে ম্যালেরিয়ার ‘হটস্পট’ হিসেবে বিবেচনা করছে সংশ্লিষ্টরা।
সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের মে মাসে জেলায় ৭৫ জন ম্যালেরিয়া রোগী শনাক্ত হয়েছিল। ২০২৪ সালে শনাক্ত হয়েছিল ৩৯ জন। এছাড়া ২০২৩ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত যথাক্রমে ৩৩, ৯, ৫ এবং ১০ জন রোগী শনাক্ত হয়। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার প্রবণতা থাকায় এবারও উদ্বেগ বাড়ছে স্বাস্থ্য বিভাগে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড়ি এলাকায় অতিবৃষ্টি, বনাঞ্চল ঘেরা পরিবেশ এবং জমে থাকা পানিতে মশার বংশবৃদ্ধি দ্রুত হওয়ায় ম্যালেরিয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এবং দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সচেতনতার অভাব ও দ্রুত চিকিৎসা না পাওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।
জেলা সার্ভেইলেন্স মেডিকেল অফিসার ডা. বিশ্ব জ্যোতি চাকমা বলেন, ম্যালেরিয়ার একটি ভেরিয়েন্ট খুবই মারাত্মক এবং প্রাণঘাতী। তাই ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। ম্যালেরিয়া মশাবাহী রোগ হওয়ায় মশার কামড় থেকে বাঁচতে ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহার করতে হবে। জ্বর হলেই দ্রুত রক্ত পরীক্ষা করে চিকিৎসা নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, পাহাড়ি এলাকায় যারা বাইরে কাজ করেন তাদের ফুলহাতা জামা ও লম্বা প্যান্ট পরার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে মশার কামড় থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায়।
খাগড়াছড়ির ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. রতন খীসা বলেন, বর্ষা মৌসুমে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ সাধারণত বেড়ে যায়। তাই স্বাস্থ্য বিভাগ আগে থেকেই প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করেছে। দুর্গম এলাকাগুলোতে সচেতনতামূলক প্রচারণা, রক্ত পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসা দেওয়া গেলে ম্যালেরিয়া থেকে মৃত্যুঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। এজন্য সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।