বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষার সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট জনসংখ্যা ১৭ কোটি ২২ লাখ ৮০ হাজার। দেশে সাক্ষরতার হার ৭৭ দশমিক ০৯ শতাংশে উন্নীত হলেও এখনো নিরক্ষর রয়েছে প্রায় পৌনে চার কোটি মানুষ। অর্থাৎ ষাট বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী জনগোষ্ঠীর ২২ দশমিক ৯১ শতাংশ এখনো সাক্ষরতার বাইরে।
ইতিহাসের পাতায় আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস
সরকারি সংজ্ঞায় সাক্ষরতা শুধু অক্ষরজ্ঞান অর্জন বা নিজের নাম স্বাক্ষর করতে পারার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মাতৃভাষায় পড়তে ও তা অনুধাবন করতে পারা, মৌখিক ও লিখিতভাবে বিভিন্ন বিষয় ব্যাখ্যা করতে পারা, যোগাযোগ স্থাপন এবং গণনা করতে পারার সক্ষমতাকেও সাক্ষরতার আওতায় ধরা হয়।
১৯৬৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ইরানের তেহরানে বিশ্ব শিক্ষামন্ত্রীদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেই সম্মেলনে সাক্ষরতার গুরুত্ব ও এর বৈশ্বিক প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে ইউনেস্কো ১৯৬৬ সালের ২৬ অক্টোবর ৮ সেপ্টেম্বরকে ‘আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে।
১৯৬৭ সালে বিশ্বজুড়ে প্রথমবারের মতো উদযাপিত হয় দিবসটি। সেই থেকে প্রতি বছর নির্দিষ্ট প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্বব্যাপী উদযাপিত হয়ে আসছে এই দিনটি, যা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে সাক্ষরতা শুধু সুযোগ নয়, এটি প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার।
কালের বিবর্তনে সাক্ষরতার সংজ্ঞায় এসেছে আমূল পরিবর্তন। একসময় কেবল নাম দস্তখত করতে পারা বা সাধারণ বর্ণমালা চিনতে পারাকেই সাক্ষরতা বলা হতো। কিন্তু আজকের বিশ্ব দ্রুত প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে উঠছে। ফলে কেবল বর্ণমালা চেনার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত জ্ঞান, তথ্য যাচাইয়ের ক্ষমতা এবং কার্যকরী জীবনমুখী দক্ষতাকে সাক্ষরতার মূল অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এখন নিরক্ষরতা দূর করার অর্থ কেবল বই পড়া শেখানো নয়, বরং নাগরিককে ডিজিটাল যুগে খাপ খাইয়ে নেওয়ার যোগ্য করে তোলা।