বুধবার (৫ আগস্ট) নগরীর রংপুর টাউন হলের বিপরীতে লক্ষী সিনেমা হলের স্থানে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে জড়ো হন হাজারো মানুষ। এর আগে বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টিপাত সত্ত্বেও ফুল হাতে সাধারণ মানুষ, শহীদ পরিবার এবং বিভিন্ন ছাত্র ও রাজনৈতিক সংগঠনের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে রংপুরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। স্মৃতিস্তম্ভে’ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার মোঃ শহিদুল ইসলাম। পরে রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী চৌধুরী, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক মোঃ সাইফুল ইসলাম শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়াও জুলাই শহিদ পরিবারের সদস্যবৃন্দ এবং জুলাই যোদ্ধারা যৌথভাবে জুলাই শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এরপরে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা জুলাই শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ শেষে রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এসময় শহীদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এছাড়াও জেলা জুড়ে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে দিনটি উপলক্ষে এতিমখানা, সরকারি হাসপাতাল, এবং শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোতে উন্নত মানের খাবার পরিবেশনের বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে জেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুবিধাজনক সময়ে আলোচনা সভা ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে।
এদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে নানা কর্মসূচী পালন করে রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আনন্দ শোভাযাত্রা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ করা হয়।