সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) পর্যন্ত ডিআরসির পাঁচটি প্রদেশে ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৩৮১ জন। তাদের মধ্যে ২ হাজার ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ আক্রান্তদের প্রায় অর্ধেকই মারা গেছেন।
ডিআরসিতে এবারের ইবোলা সংক্রমণ রেকর্ড গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের পশ্চিম আফ্রিকার ভয়াবহ ইবোলা মহামারির পর এটিই সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাব। ওই মহামারিতে ১১ হাজার ৩১০ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কঙ্গোতে প্রথম ইবোলা শনাক্ত হয়। তবে দেশটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাদুর্ভাবের ঘোষণা দেওয়া হয় ১৫ মে। একই সময়ে প্রতিবেশী উগান্ডাতেও ইবোলা সংক্রমণের কথা জানানো হয়। এরপর পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হতে থাকে। মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে মৃতের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যায়। এতে দেশটির স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপরও বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।
ইবোলা মোকাবিলায় নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মীদের বেতন না পাওয়ার ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বেতন না পাওয়ায় দেশটিতে ধর্মঘটের ঘটনাও ঘটেছে। এতে রোগীদের চিকিৎসা এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গুজব ও ভুল তথ্যের বিস্তার।
স্থানীয় কিছু সামাজিক ও সাংস্কৃতিক রীতিও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বাধা তৈরি করছে। বিশেষ করে মৃত ব্যক্তিদের শেষকৃত্যের সময় পরিবারের সদস্যরা অনেক ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠভাবে অংশ নেন। এতে সংক্রমিত ব্যক্তির মরদেহের সঙ্গে সরাসরি সংস্পর্শের ঝুঁকি তৈরি হয়। ফলে ভাইরাসটি আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এবারের সংক্রমণের জন্য দায়ী ইবোলার ধরনটিও বিরল। এই ধরনটির বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত চিকিৎসা বা টিকা পাওয়া যাচ্ছে না। তবে গত সপ্তাহে ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, এই স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে পরীক্ষামূলক টিকার প্রয়োগ শুরু হয়েছে।
তবে সেই টিকার পরীক্ষার ফল পেতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। ফলে সংক্রমণ দ্রুত বাড়লেও তা ঠেকাতে এখনই অনুমোদিত টিকা ব্যবহারের সুযোগ নেই। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
এদিকে, কঙ্গো থেকে নিজ দেশে ফেরার পর এক ইসরায়েলি নাগরিকের শরীরে জ্বর দেখা দেওয়ায় ইসরায়েলেও সম্ভাব্য ইবোলা সংক্রমণ নিয়ে সতর্কতা তৈরি হয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার জানিয়েছে, ওই ব্যক্তির ইবোলা পরীক্ষা করা হয়েছে এবং তাকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরীক্ষার ফল পাওয়ার কথা রয়েছে।
তবে ওই ব্যক্তি ইবোলায় আক্রান্ত কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
সূত্র: আল-জাজিরা