গভর্নর ভেনিয়ামিন কন্দ্রাতিয়েভ জানান, ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আফিপস্কি রেলস্টেশনে অন্তত দুজন নিহত এবং আরও দুজন আহত হয়েছেন। খবর বার্তা সংস্থা আলজাজিরার।
ইউক্রেন রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও অন্যান্য অবকাঠামোয় হামলা চালিয়ে আসছে। এর লক্ষ্য হলো, মস্কোর যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা দুর্বল করা এবং দেশটির আর্থিক আয় কমিয়ে দেওয়া।
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা আফিপস্কির তেল শোধনাগারের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। একই রাতে রাশিয়ার আস্ত্রাখান অঞ্চলের একটি গ্যাস প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রেও হামলা চালানোর দাবি করেছে তারা।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাতে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১৪৮টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে। একই সঙ্গে তারা ওডেসার কাছে পিভদেনি বন্দরে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর জন্য পণ্য বহনকারী একটি জাহাজ ও সামরিক পণ্য খালাসের কাজে ব্যবহৃত বন্দর অবকাঠামোয় হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।
সাম্প্রতিক মাসগুলোয় ইউক্রেন রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বাড়িয়েছে। এর ফলে রাশিয়ায় জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যে সোমবার (২৫ আগস্ট) রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একটি সরকারি আদেশে স্বাক্ষর করেন। এতে হামলা থেকে যথাযথভাবে সুরক্ষিত নয়- এমন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ সাময়িকভাবে রাষ্ট্রের হাতে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে কিয়েভে ইউক্রেনের মিত্র দেশগুলোর নেতারা দেশটিকে আরও সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ায় আরও হামলা চালানোর জন্য ইউক্রেন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন বাড়াতে চায়।
৩০ দেশের নেতাদের নিয়ে গঠিত ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’-এর বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানান। অন্যদিকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ সতর্ক করে বলেন, ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর ওপর হামলার ঝুঁকি ও উসকানি বাড়তে পারে।
বৈঠকে ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব ইউক্রেনের মিত্রদের রাশিয়ার ভেতরে দূরপাল্লার হামলার সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তার আহ্বান জানান।
তবে ক্রেমলিন বার্নহ্যাম ও স্টাবকে ‘যুদ্ধপন্থি দল’-এর সদস্য হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।