প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘আমজান’ নামের ট্যাংকারটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দরের কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান করছিল। হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, সৌদি আরবের বিরুদ্ধে তাদের ঘোষিত ‘অবরোধের জবাবে পাল্টা অবরোধ’ অভিযানের অংশ হিসেবে এ হামলা চালানো হয়েছে।
হুথিদের দাবি, সৌদি ভূখণ্ড থেকে ইয়েমেনে সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়া একটি বড় সামরিক বহরেও হামলা চালানো হয়েছে। এতে ১০টির বেশি অস্ত্রবাহী ট্রাক পুড়ে বা ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি। পাশাপাশি সৌদি বাহিনীর সদস্য ও কয়েকটি সামরিক স্থাপনাও হামলার শিকার হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব দাবির স্বাধীন কোনো যাচাই পাওয়া যায়নি।
হুথিরা গত সপ্তাহে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে তিনটি লক্ষ্য ঘোষণা করে। এর মধ্যে রয়েছে সৌদি জাহাজ চলাচলের বিরুদ্ধে ‘অবরোধের জবাবে অবরোধ’, সৌদি সেনা সমাবেশের স্থানে হামলা এবং ইয়েমেনের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও বিদেশি হস্তক্ষেপ মোকাবিলা।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি Saudi Aramco-এর স্থাপনাগুলোও অন্তত চারবার হামলার লক্ষ্য হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। একই সময়ে হুথিদের কর্মকাণ্ড নিয়ে ইরানও তুলনামূলকভাবে প্রকাশ্য সমর্থনমূলক বক্তব্য দিয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বাব আল-মান্দেব প্রণালি। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত এই প্রণালি বৈশ্বিক তেল ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ।
নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় সৌদি আরব তার কিছু তেল রপ্তানি লোহিত সাগরের পরিবর্তে মিশর ও সুয়েজ খালমুখী উত্তরাঞ্চলীয় রুটে পুনর্নির্দেশ করছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি তেলবাহী জাহাজে হামলা নিয়মিত হলে জাহাজের রুট পরিবর্তন, বীমা ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং তেল সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওপরও।