রোববার (২ আগস্ট) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল আয়োজিত ‘জুলাই রক্তাক্ত : স্মরণ ও প্রত্যয়’ শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমালোচনা করা হলেও ভাষার ব্যবহারে শালীনতা বজায় রাখা জরুরি। তিনি অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে বিরোধীদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও অপপ্রচার চালানো হয়েছে। তবে বিএনপি কখনো অশালীন ভাষা ব্যবহার করেনি বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, বর্তমানে কিছু তরুণ নেতার বক্তব্যে যে ধরনের ভাষা দেখা যাচ্ছে, তা গণতন্ত্র ও উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ঘৃণার রাজনীতি করে কেউ দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এনসিপির সমালোচনা করে রিজভী বলেন, তরুণ রাজনীতিকদের চিন্তা হওয়া উচিত প্রগতিশীল ও ভবিষ্যতমুখী। দেশের জন্য নতুন কিছু করার লক্ষ্য নিয়েই তরুণদের রাজনীতিতে আসা উচিত।
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতা ধরে রাখতে সহিংস পথ বেছে নিয়েছিলেন। তবে জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কারণে তার পরাজয় হয়েছে।
রিজভী আরও বলেন, জুলাই আন্দোলন দীর্ঘদিনের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামের অংশ এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের ধারাবাহিকতা।
প্রশাসনে দলীয় নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার পরিবর্তনের পর গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন নিয়োগ দেওয়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও প্রচলিত। যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্পয়েলস সিস্টেম’-এর উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সেখানে অনেক পদে নতুন নিয়োগ হয়।
একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ভবিষ্যতে জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশে বড় ধরনের দলীয়করণ হতে পারে।
সভায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির ছাত্রশিবিরের সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে নারী শিক্ষার্থীদের হয়রানি ও সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগ রয়েছে।
এ সময় তিনি এনসিপির নেতা নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যের সমালোচনা করেন এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাউদ্দিন আম্মারকে নিয়েও মন্তব্য করেন।
আলোচনাসভায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, ছাত্রদল ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।