মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মিরপুরে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
মান্না বলেন, ‘আমি এখানে এসে পরিস্থিতি দেখে স্তম্ভিত।’
পুলিশের নীরব ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, তিন ঘণ্টা ধরে এ অপারেশন চলেছে। অথচ এখান থেকে থানা কত দূরে? আধা কিলোমিটারের মধ্যে থেকেও পুলিশ আসতে পারেনি। তাকে জানানো হয়েছে, ৯৯৯ নম্বরে কয়েকবার ফোন করার পরও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, এসব সন্ত্রাসীর শেকড় বের করতে হবে এবং কারা এর সঙ্গে যুক্ত, তা প্রকাশ করা দরকার। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে হবে। গণমাধ্যমসহ দেশবাসীকে এ বিষয়ে নজর রাখতে হবে।
মান্না বলেন, ‘বাংলাদেশ কেন, পাকিস্তান আমলেও হাসপাতালের ওপর এমন বর্বর হামলার কথা আমার মনে পড়ে না।’ এটি একটি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে দরিদ্র মানুষ, মা ও প্রসূতিদের জন্য অলাভজনকভাবে সেবা দিয়ে থাকে। এর ওপর কারও রাগ থাকার কথা নয়।
তিনি অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা রাতের বেলা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে লুটপাট চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটির সম্পত্তি নিয়ে গেছে। অথচ এখন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বা শনাক্ত করা যায়নি।
ঘটনার নিন্দা জানিয়ে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর কাঠামোগত সংস্কারের যেসব বিষয় সামনে এসেছিল, সেগুলো বাস্তবায়ন করা হয়নি। মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্কারের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন হয়নি।
এ সময় স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সহযোগিতার প্রশংসা করে মান্না বলেন, তিনি আসার পর স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সাহায্য-সহযোগিতা করতে দেখেছেন। সরকারকে এখন এগিয়ে আসতে হবে। এ ঘটনায় সরকার নির্লিপ্ত থাকলে মানুষ সরকারের দিকেই আঙুল তুলবে।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। মান্না বলেন, শুধু এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রেই নয়, আরও অনেক জায়গায় এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। গত কয়েকদিনে মুন্সিগঞ্জ, পাবনা এবং বিভিন্ন স্টুডিওতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। দিনের পর দিন বাড়িঘর ভাঙচুর করা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা কর্তৃপক্ষের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ দেখা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, সরকার এখনই পরিস্থিতির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে জনগণের কাছে একটি বড় নেতিবাচক বার্তা যাবে। এ বিষয়ে সরকারের সতর্ক হওয়া উচিত।