স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু রাজধানীতে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের প্রতিটি এলাকায় ধাপে ধাপে ক্লিনিক ও হাসপাতাল পরিদর্শন করা হবে। প্রতিদিনই কোনো না কোনো প্রতিষ্ঠানে হঠাৎ পরিদর্শন চালিয়ে সেবার মান যাচাই করা হবে। এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যখাতকে আরও শৃঙ্খলার মধ্যে আনা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি জানান, রাজধানীর আসাদগেট থেকে শ্যামলী রিং রোড এলাকার সব ক্লিনিক আগামী সাত দিনের মধ্যে পরিদর্শনের আওতায় আনা হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ঘাটতি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এ অভিযান শাস্তিমূলক না হয়ে মূলত সেবার মানোন্নয়নে সহায়ক হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের উদ্দেশ্য কাউকে শাস্তি দেওয়া বা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা নয়; বরং জনগণের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।” তবে কোনো প্রতিষ্ঠানে গুরুতর অবহেলা বা অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
পরিদর্শন কার্যক্রম দেশব্যাপী চালাতে সিভিল সার্জন ও স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ত করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, গ্রামের মানুষও যেন মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পায়, সেটিই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
এর আগে সোমবার রাজধানীর শ্যামলীতে একটি হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় সেটি সিলগালা করার নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ওই হাসপাতালে অযোগ্য ব্যক্তিরা চিকিৎসকের ছদ্মবেশে অস্ত্রোপচার করছেন-এমন অভিযোগের ভিত্তিতেই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, কোনো ক্লিনিক লাইসেন্সের শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে প্রথমে সতর্ক করা হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ত্রুটি সংশোধন না করলে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।