গত ১৬ বছরে দেশে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি উল্লেখ করে তিনি জানান, দেশের প্রতিটি স্তরে টেকসই উন্নয়নের জন্য তাঁর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। এই উন্নয়নের সুফল ঘরে তুলতে তিনি দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।
সোমবার বিকেলে দিনাজপুর সার্কিট হাউজ মাঠে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশ ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দিনাজপুরের সাথে নিজের নাতিদীর্ঘ স্মৃতির কথা উল্লেখ করেন এবং এই অঞ্চলের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান। তিনি বলেন:
শিগগিরই দেশের শিল্পকারখানা মালিকদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসবেন।
সারা দেশে পরিকল্পিত শিল্পায়ন ও নতুন কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।
বিশেষ করে দিনাজপুরে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতির চাকা সচল করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
এক মাসের সাফল্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার এক মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন:
"ইতিমধ্যেই আমরা কৃষিঋণ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, ধর্মীয় গুরুদের সম্মানি ভাতা প্রদান এবং খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছি। আগামী মাসেই কৃষকদের জন্য 'কৃষক কার্ড' বিতরণ করা হবে।"
২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন প্রকল্প পানির সংকট সমাধানে সরকারের বিশাল পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। এর ফলে:
দিনাজপুরসহ সারা দেশের সেচ ও পানির সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।
কৃষিজমি আবাদে পানির অভাব থাকবে না।
ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ওপরে উঠে আসবে, যা আর্সেনিক সমস্যার সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
উপস্থিত নেতৃবৃন্দ দিনাজপুর জেলা বিএনপি সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন দুলালের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচির পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর আলম। এছাড়া স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।