বুধবার (২৯ জুলাই) বেলা ১১ টার দিকে রয়্যাল ড্যানিশ এম্বাসির অর্থায়নে ব্র্যাকের ক্লাইমেট অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইনোভেশন প্রোগ্রাম -এর রেইন ফর লাইফ প্রকল্পের উদ্যোগে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের উত্তর হাড়িটানা মোল্লাবাড়ি মসজিদসংলগ্ন একটি কৃষকের পুকুরে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন পাথরঘাটা সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হাসিবুল হক। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী, হাঁড়িটানা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উৎপল কুমার মিত্র, অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট আব্দুল বারী শিকদার, উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও জলবায়ু গবেষক শফিকুল ইসলাম খোকন এবং ব্র্যাকের রেইন ফর লাইফ প্রকল্পের অপারেশন ম্যানেজার কৃষিবিদ মো. আসাদুজ্জামান।
প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. হাসিবুল হক বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় জলবায়ু-সহনশীল মাছের চাষ এখন সময়ের দাবি। সঠিক প্রজাতি নির্বাচন, বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন বৃদ্ধি ও টেকসই মৎস্যচাষ সম্ভব।” তিনি এ ধরনের সময়োপযোগী উদ্যোগকে স্বাগত জানান পাশাপাশি মৎস্যচাষিদের সরকারি প্রযুক্তিগত পরামর্শ গ্রহণের আহ্বান জানান।
শফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকা প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে জলবায়ু-সহনশীল মৎস্যচাষ খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানুষের আয় বৃদ্ধি এবং বিকল্প জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি করবে।” তিনি স্থানীয় মৎস্যচাষিদের এ ধরনের উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
ব্র্যাকের রেইন ফর লাইফ প্রকল্পের অপারেশন ম্যানেজার কৃষিবিদ মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “এই উদ্যোগের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি, টেকসই মৎস্যচাষের প্রসার এবং স্থানীয় জলাশয়ের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। এর ফলে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জলবায়ু-সহনশীল জীবিকা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।”
তিনি আরও বলেন, রেইন ফর লাইফ -এর সহযোগিতায় পাথরঘাটা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ১ শত ১৩ টি নির্বাচিত কৃষকের পুকুরে, যার মোট আয়তন প্রায় ৪২ বিঘা, বিভিন্ন প্রজাতির জলবায়ু সহনশীল মাছের চার লক্ষাধিক পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১ লক্ষ ৯ হাজার ৮ শত টি মনোসেক্স তেলাপিয়া, ২ লক্ষ ৬০ হাজার ৪ শত টি নোনা টেংরা এবং ২৪ হাজার ২ শত টি তারা বাইমের পোনা।