তিনি বলেন, “পুরোপুরি তেল দেওয়া হচ্ছে না, যার কারণে দিনের বেশিরভাগ সময় পাম্পগুলো বন্ধ থাকে। ব্যবসা এখন আপদ মনে হচ্ছে। তেল শেষ হলে নোটিশ দিয়ে জানাই। মানুষ বিশ্বাস করতে চায় না, তাই এসে নজেল চাপা দেখে। কেউ কেউ ট্যাংকের ঢাকনা খুলেও দেখেন।”
মিজানুর রহমান আরও বলেন, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। বগুড়া আরএম অফিসে গেলে বিক্রির লিমিট দেওয়া হয়েছে। যেমন, ৯ হাজার লিটার চাইলে দেওয়া হচ্ছে ৪ হাজার, কখনও তা পাওয়া যায় না। আরেকদিন আবার তেল সরবরাহ হয় না। বিপিসির দেওয়া হিসাবেও শুঙ্করের ফাঁকি রয়েছে। সারাবছরের গড় হিসাব করলে তেলের অর্ধেক পরিমাণও ঠিকমতো সরবরাহ করা হচ্ছে না, যা বাজার স্বাভাবিক রাখা কঠিন করছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্ট ও পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব মীর আহসান উদ্দিন পারভেজ জানান, পদ্মা অয়েল ও মেঘনা অয়েল কোম্পানির ডিলাররা মোটামুটি তেল পাচ্ছে, তবে যমুনা অয়েল কোম্পানি চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করছে না। বরিশালে কোম্পানির কর্মকর্তারা এখনও সরকারের আদেশ পাইনি বলছেন।
ইরান যুদ্ধের আতঙ্কে সাধারণ মানুষ বেশি তেল কিনতে শুরু করলে ৬ মার্চ থেকে রেশনিং কার্যকর করা হয়। মোটরবাইকে ২ লিটার, SUV বা মাইক্রোবাস ২০–২৫ লিটার, পিকআপ/লোকাল বাস ৭০–৮০ লিটার এবং দূরপাল্লার বাস, ট্রাক বা কনটেইনার ট্রাক ২০০–২২০ লিটার বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে রাইডশেয়ারিং চালকদের জন্য ২ লিটার থেকে বাড়িয়ে ৫ লিটার করা হয় এবং ২৫% রেশনিং কমিয়ে ১৫% করা হয়।
১৫ মার্চ রেশনিং তুলে নেওয়া হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। খোদ রাজধানীর পাম্পগুলোতে এখনও যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। তবে কয়েকদিন আগের তুলনায় চাপ কিছুটা কমেছে বলে মনে করছেন ভুক্তভোগিরা।