স্থানীয় ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, গদাইপুর ইউনিয়নে বর্তমানে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০টি বাণিজ্যিক নার্সারি রয়েছে। এ ছাড়া উপজেলার অন্যান্য এলাকায় রয়েছে আরও প্রায় ২০০টি ছোট-বড় নার্সারি। ১০ শতক থেকে এক বিঘা বা তারও বেশি জমিতে গড়ে ওঠা এসব নার্সারিতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা উৎপাদন করা হচ্ছে।
গদাইপুর ঘুরে দেখা যায়, নার্সারিগুলোতে সারি সারি ফলজ, বনজ, ঔষধি, ফুল ও সৌন্দর্যবর্ধনকারী গাছের চারা সাজিয়ে রাখা হয়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্রেতাদের আনাগোনা রয়েছে। ব্যস্ত সময় পার করছেন নার্সারি মালিক, শ্রমিক ও পরিবহনকর্মীরা।
স্থানীয় নার্সারি মালিক কামাল মল্লিক বলেন, বর্ষাকালেই সবচেয়ে বেশি চারা বিক্রি হয়। এ সময় রোপণ করা চারা বৃষ্টির পানির কারণে সহজে বেঁচে থাকে। ব্যক্তি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন বর্ষা মৌসুমে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে।
সৌমিতা নার্সারির মালিক দীপংকর অধিকারী বলেন, শুধু বর্ষা মৌসুমেই গদাইপুর এলাকার নার্সারিগুলোতে প্রায় ১০০ কোটি টাকার চারা বিক্রি হয়। সারা বছর মিলিয়ে এ বাণিজ্যের পরিমাণ ১৫০ থেকে ২০০ কোটি টাকায় পৌঁছে। অনলাইন ও সরাসরি বিক্রি মিলিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০ লাখ টাকার চারা বিক্রি হয়, যা বর্ষা মৌসুমে কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
তিনি জানান, বর্তমানে সিডলেস লেবু, মাল্টা, ক্যারেলা নারিকেল, স্ট্রবেরি, রাম্বুটান, ড্রাগন, থাই পেয়ারা, সফেদা, কদবেল, আশফল, লিচু, সুপারি ও নারিকেলসহ ৪০ থেকে ৫০ প্রজাতির বিদেশি ফলের চারা উৎপাদন করা হচ্ছে। এসব চারা বগুড়া, লালমনিরহাট, বাগেরহাট, নড়াইল, চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, বরিশাল ও কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। কিছু চারা ভারতে রপ্তানিও করা হয় বলে দাবি তাঁর।
ফলের চারার পাশাপাশি চুইঝাল, দারুচিনি, তেজপাতা, গোলমরিচ, এলাচ ও লবঙ্গসহ বিভিন্ন মসলাজাতীয় গাছের চারাও উৎপাদন হচ্ছে। এ ছাড়া আম, কাঁঠাল, জাম, পেয়ারা, আমড়া, জলপাই, কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, মেহগনি, আকাশমনি, নিম, বকুল ও শিমুলসহ বিভিন্ন বনজ ও সৌন্দর্যবর্ধনকারী গাছের চারারও চাহিদা রয়েছে।
নার্সারিগুলোতে শ্রমিকদের আগাছা পরিষ্কার, চারায় পানি দেওয়া, নতুন চারা পলিব্যাগ ও বস্তায় প্রতিস্থাপন এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ট্রাক, পিকআপ ও ভ্যানে চারা পাঠানোর কাজ করতে দেখা যায়। বড় চারা বস্তায় এবং ছোট চারা পলিব্যাগে উৎপাদন করায় পরিবহন সহজ হয় বলে জানান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, নার্সারি শিল্প শুধু লাভজনক ব্যবসাই নয়, এটি স্থানীয় অর্থনীতিরও গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। এ খাতকে ঘিরে শত শত মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। শ্রমিক, পরিবহনকর্মী, মাটি ও সার সরবরাহকারী, বস্তা ও পলিব্যাগ ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের জীবিকা এখন এ শিল্পের ওপর নির্ভরশীল।
স্থানীয় নার্সারি মালিকদের মতে, সরকারি সহযোগিতা, সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ এবং পরিবহন ব্যবস্থার আরও উন্নয়ন হলে এ খাত আরও সম্প্রসারিত হবে। তাঁদের দাবি, পাইকগাছার উৎপাদিত চারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সুনাম অর্জন করেছে এবং খুলনা অঞ্চলের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।