তিনি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে যেকোনো চুক্তি করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং লাভজনক দিকটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেলে সচিবালয়ে ভারতের রাষ্ট্রদূত প্রণয় কুমার ভার্মা এবং চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে পৃথক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান।
জ্বালানি চুক্তিতে স্বচ্ছতা ও সমতা
উপদেষ্টা বলেন, "অতীতের সরকারগুলো জ্বালানি বিষয়ে যেসব চুক্তি করেছিল, সেগুলো ছিল মূলত একপাক্ষিক বা অসম চুক্তি। আমরা অতীতের সেই ভুলগুলোর পুনরাবৃত্তি চাই না। ভারতসহ বিশ্বের যেকোনো দেশের সঙ্গে নতুন চুক্তি করার ক্ষেত্রে সেটি যেন বাংলাদেশের জন্য সত্যিকার অর্থেই লাভজনক হয়, তা নিশ্চিত করা হবে।"
ঋণ নয়, বিনিয়োগে জোর
বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সরকারের কৌশলে বড় পরিবর্তনের আভাস দিয়ে তিনি বলেন:
চীন ও ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান 'ঋণ-নির্ভরতা' কমিয়ে টেকসই বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে বর্তমান সরকার।
বৈদেশিক ঋণের বোঝা না বাড়িয়ে সরাসরি বিনিয়োগ (FDI) আকর্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির সংস্কৃতি চালু করতে চায় সরকার।
চীনের সঙ্গে ২০ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্পের পর্যালোচনা
চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়বস্তু তুলে ধরে উপদেষ্টা জানান, ২০১৬ সালে চীনের সাথে সম্পাদিত ২০ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্পগুলোর বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করা হয়েছে। এসব প্রকল্পের অগ্রগতি যাচাই করে আগামী দিনের নতুন কৌশল নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
'ওয়ান সিটিজেন ওয়ান কার্ড' পরিকল্পনা
প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক সংস্কার নিয়ে তিনি জানান, ভারতের 'আধার কার্ড'-এর সফল অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশেও 'ওয়ান সিটিজেন ওয়ান কার্ড' চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। এর মাধ্যমে প্রতিটি নাগরিকের সেবা প্রাপ্তি আরও সহজ ও স্বচ্ছ হবে।
উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর আরও জানান, বর্তমান সরকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে দেশের সার্বভৌমত্ব এবং অর্থনৈতিক সুরক্ষা বজায় রেখেই সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।