নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. তরকিকুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা, সামাজিক সম্মান ক্ষুণ্ন করা এবং বিএনপির ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে স্থানীয় পতিত আওয়ামী লীগের নেতাদের ইন্ধনে এসব মামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে লোহাগড়া উপজেলার ঈশানগাতি গ্রামে নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে এসব অভিযোগ করেন তরিকুল ইসলাম।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর থেকেই কাশিপুর ইউনিয়নে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের জনপ্রিয়তা ক্ষুণ্ন করার জন্য একটি মহল সক্রিয় হয়ে ওঠে। তাদের দাবি, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি এবং পতিত স্বৈরাচারী সরকারের দোসররা আড়াল থেকে ষড়যন্ত্র করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ঘটনাকে ব্যবহার করে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করাচ্ছেন।
তরকিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, স্থানীয় চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান, প্রতিবেশী মলিন মল্লিক এবং সুপ্রীতি শিউলি বেগমকে সামনে রেখে তার ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি ভিত্তিহীন মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই সেগুলো করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, দায়ের করা সব মামলায় তারা বর্তমানে আদালত থেকে জামিনে রয়েছেন। সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা এবং বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে ধারাবাহিকভাবে সাজানো মামলা দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তরিকুল ইসলাম নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান। একই সঙ্গে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দ্রুত প্রত্যাহার এবং এর পেছনে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
এ সময় উপস্থিত উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির নেতারা অভিযোগের প্রতি সমর্থন জানিয়ে এ ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেন। তারা অবিলম্বে দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহারের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন লোহাগড়া উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. নাজমুল আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ আলম শিকদার, কাশিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. অলিউর রহমান, বিএনপি নেতা মো. কোবাদ হোসেন খাঁন এবং ভুক্তভোগী আসাদুজ্জামান (কসমত)সহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
উল্লেখ্য, এ প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলো সংবাদ সম্মেলনে তরিকুল ইসলামের দেওয়া বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি ।