শুক্রবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিন সফরে কাতারের উপহারের বিমানটিই ব্যবহার করবেন তিনি। তাঁর ভাষায়, বিমানটিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তার জন্য প্রস্তুত করা হবে।
ট্রাম্প বলেন, বিমানটিতে বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। তবে যেকোনো অঞ্চলে নিরাপদে চলাচলের উপযোগী করে তুলতে আরও সময় প্রয়োজন। আগামী অক্টোবর থেকে বিমানটিতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা যুক্ত করার কাজ শুরু হবে।
কাতার ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে বিলাসবহুল বোয়িং ৭৪৭ বিমানটি উপহার দেয়। পরে প্রয়োজনীয় কিছু পরিবর্তন এনে জুনের শেষ দিকে বিমানটি ট্রাম্পের ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করা হয়। ট্রাম্প তখন এটিকে ‘উড়ন্ত হোয়াইট হাউস’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
তবে বিদেশি একটি দেশের কাছ থেকে এত মূল্যবান বিমান উপহার নেওয়া নিয়ে শুরু থেকেই নৈতিকতা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে বিমানটিতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।
গত জুলাইয়ে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলন শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সময়ও বিমানটি নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়। ইরানের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় ট্রাম্পকে বিকল্প বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়।
এবার সেই নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যেই কাতারের দেওয়া বিমান নিয়ে আয়ারল্যান্ড সফরের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন ট্রাম্প।
এদিকে, ট্রাম্পের প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বিমানটি তাঁর পরিকল্পিত প্রেসিডেন্ট জাদুঘরে রাখা হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
অন্যদিকে, মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা বোয়িং জানিয়েছে, নতুন করে প্রেসিডেন্টের জন্য নির্মিত দুটি ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এর প্রথমটি ২০২৮ সালে সরবরাহের আশা করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের তুলনায় কয়েক বছর দেরিতে বিমান দুটি সরবরাহ করা হবে।