গবেষণা অনুযায়ী, বাংলা মাসের নামগুলো মূলত নক্ষত্র বা তারকারাজির নাম থেকে নেওয়া হয়েছে। যেমন— বিশাখা থেকে বৈশাখ, জ্যেষ্ঠা থেকে জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ়া থেকে আষাঢ়, শ্রবণা থেকে শ্রাবণ, ভাদ্রপদ থেকে ভাদ্র, কৃত্তিকা থেকে কার্তিক, অগ্রহায়ণ থেকে অগ্রহায়ণ, পূষ্যা থেকে পৌষ, মঘা থেকে মাঘ, ফল্গুনি থেকে ফাল্গুন এবং চিত্রা থেকে চৈত্র।
আগেকার সময়ে অগ্রহায়ণ মাসে ধান কাটার মৌসুম শুরু হতো বলে একে বছরের প্রথম মাস হিসেবে ধরা হতো। তাই ‘অগ্রহায়ণ’ নামের অর্থ দাঁড়ায়— অগ্র অর্থ প্রথম এবং হায়ণ অর্থ বর্ষ বা ধান।
মোগল আমলে সম্রাট আকবরের সময় মাসের প্রতিটি দিনের আলাদা নাম থাকা প্রজাসাধারণের জন্য জটিল হয়ে উঠেছিল। পরে সম্রাট শাহজাহানের সময়ে সাত দিনের ভিত্তিতে সপ্তাহ প্রবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ইংরেজি নামের আদলে বাংলায় দিনের নামকরণ করা হয়— যেমন রবিবার (Sunday), যেখানে ‘রবি’ অর্থ সূর্য এবং ‘বার’ অর্থ দিন।
বাংলা বর্ষপঞ্জির সংস্কার মূলত মোগল আমল থেকেই ধাপে ধাপে বিকশিত হয়। কৃষিভিত্তিক সমাজে এটি প্রথমে ফসলের হিসাব-নিকাশের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে আন্তর্জাতিক যোগাযোগের প্রয়োজন বাড়ায় বাংলাদেশে খ্রিস্টীয় সনও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতে থাকে।
বর্তমানে বাংলাদেশে প্রতি বছর ১৪ এপ্রিল নববর্ষ পালিত হয়। বাংলা একাডেমির নির্ধারিত পঞ্জিকা অনুসারে এই দিনটি নির্ধারিত।
বাংলা, হিজরি ও খ্রিস্টীয়—এই তিন সনের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। হিজরি সন চাঁদের গতির ওপর নির্ভরশীল, খ্রিস্টীয় সন সৌরভিত্তিক এবং ঘড়ির সময় অনুসরণ করে। অন্যদিকে বাংলা সন ভোরের সূর্যোদয়ের সঙ্গে নতুন দিন শুরু করে।