প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, ছিনতাই হওয়া একটি স্মার্টফোনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এর আগে দুই গ্রুপের মধ্যে সকালে একাধিক দফা পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়।
ঘটনার পর ইমনের মা ফেরদৌসী বেগম মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় মোট ২১ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে ঘটনাস্থল থেকে আটক তিনজন—সাইফ, তুহিন ও রাব্বী কাজী—এবং পরে গ্রেপ্তার হওয়া সুমন রয়েছেন।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে তিনটি চাপাতি, একটি কাটার ও একটি স্টিলের পাত জব্দ করা হয়েছে। তারা সবাই আরমান–শাহরুখ গ্রুপের সদস্য।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, ইমন দীর্ঘদিন রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থান–সংলগ্ন এলাকার নিয়ন্ত্রণ করত এবং সেখানে চাঁদাবাজি, মাদক ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ছিল। অপরদিকে আরমান–শাহরুখ গ্রুপ ওই এলাকার আরেক অংশ নিয়ন্ত্রণ করত। দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল।
ডিএমপির গোয়েন্দা সূত্র জানায়, রোববার সকালে কামরাঙ্গীরচর এলাকায় দুই গ্রুপের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয় ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোন নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে। পরে বিকেলে রায়েরবাজার এলাকায় ফের সংঘর্ষ বাধে, যার এক পর্যায়ে ইমনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, চাপাতি হাতে ১০–১৫ জন ইমনকে ধাওয়া করছে এবং পরে তাকে ঘিরে ধরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তার বাঁ পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন তিনি। পরে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনায় জড়িত ১০–১২ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে।
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার ইবনে মিজান বলেন, ইমন এলাকায় মাঝেমধ্যে এসে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাত এবং পরে সরে যেত। আধিপত্য বিস্তার ও আগের বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।