মঙ্গলবার (৩০ জুন) ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে মউক চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার বলেন, "এটি একটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা। আহতদের চিকিৎসার সার্বিক খোঁজখবর নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।"
তিনি আরও জানান, জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পরিদর্শনকালে মহানগর যুবদলের সভাপতি মোজাম্মেল হক টুটু, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আতাহার তালুকদার রিপনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় গোলপুকুরপাড় এলাকার আসফি ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে একটি পুরোনো অগ্নিনির্বাপণ সিলিন্ডার কাটার সময় বিকট শব্দে গ্যাস লিকেজের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তেই বিষাক্ত গ্যাস আশপাশে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং অন্তত ৩৯ জন অসুস্থ হয়ে পড়েন।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক (এসআই) জবায়দুল হক জানান, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৩৯ জনের মধ্যে ৩৮ জন প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেছেন। তবে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তিনি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)-তে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শিবিরুল ইসলাম বলেন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে এটি দুর্ঘটনা বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় কারও অবহেলা বা গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি ও কঠোর তদারকি প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।