বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬ ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Channel18

সারা দেশ

১৭ বছর পররায়: জয়পুরহাট সরকারি মহিলা কলেজের মেট্রন হত্যা মামলায় দারোয়ানের যাবজ্জীবন

১৭ বছর পররায়: জয়পুরহাট সরকারি মহিলা কলেজের মেট্রন হত্যা মামলায় দারোয়ানের যাবজ্জীবন

দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর পর আলোচিত জয়পুরহাট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রীনিবাসের মেট্রন সামছুন নাহার (৪৩) হত্যা মামলার রায় দিয়েছেন আদালত। রায়ে কলেজের দারোয়ান শহিদুল ইসলামকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে দুটি ধারায় ১৩ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও আড়াই মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।‎‎আজ বুধবার বিকালে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. তসরুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) আহসান হাবীব চপল রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।‎ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত শহিদুল ইসলাম (৫৫) জয়পুরহাট শহরের পশ্চিম দেবীপুর মহল্লার ছলিম উদ্দিনের ছেলে। তিনি জয়পুরহাট সরকারি মহিলা কলেজের দারোয়ান ছিলেন।


‎আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালের ২১ নভেম্বর রাতে জয়পুরহাট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রীনিবাসের অস্থায়ী মেট্রন (তত্ত্বাবধায়ক) সামছুন নাহার নিখোঁজ হন। চার দিন পর, ২৫ নভেম্বর তাঁর ভাই ফেরদৌস আলম লুলু জয়পুরহাট সদর থানায় শহিদুল ইসলামসহ কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।


‎মামলার তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ শহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিখোঁজের ১৮ দিন পর, ৯ ডিসেম্বর কলেজের ছাত্রীনিবাসের সেপটিক ট্যাংক থেকে সামছুন নাহারের বিকৃত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে শহিদুল ইসলাম ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলার অভিযোগ অনুয়ায়ী, কলেজের দারোয়ান শহিদুল ইসলাম কলেজে ছাত্রীনিবাসের মেট্রোন সামছুন নাহারকে উত্ত্যক্ত ও অনৈতিক সম্পর্কের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। এতে সামছুন নাহার রাজি ছিলেন না। তিনি ঘটনার দিন সামছুন নাহারকে ডেকে নিয়ে অনৈতিক প্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হওয়ায় তিনি সামছুন নাহারকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। হত্যার পর তাঁর গলার স্বর্ণের চেইন, কানের দুল ও আংটি খুলে নেন। হত্যাকাণ্ড গোপন করতে হাসুয়া দিয়ে মরদেহের পেট কেটে কলেজ চত্বরের সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রাখেন। পরে তাঁর কাছ থেকে লুট করা স্বর্ণালঙ্কারও উদ্ধার করে পুলিশ। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জয়পুরহাট সদর থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম ২০১০ সালের ৫ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বিচার চলাকালে ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত এ রায় দেন।
‎ 
জয়পুরহাট আদালতের পুলিশ পরিদর্শক আবু বকর সিদ্দিক বলেন, রায় ঘোষণার পর দণ্ডিত শহিদুল ইসলামকে কড়া পুলিশ পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জয়পুরহাট সরকারি মহিলা কলেজের মেট্রন সামছুন নাহার হত্যা মামলাটি জেলার অন্যতম আলোচিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে দীর্ঘদিন জনমনে আলোচনায় ছিল। প্রায় ১৭ বছর পর এ রায়ের মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়ার সমাপ্তি হলো।

আরও

ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ, স্বজনদের বিক্ষোভ

সারা দেশ

ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ, স্বজনদের বিক্ষোভ

রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় মো: আনোয়ার হোসেন (৫৫) নামে এক রোগীর মৃত্যুতে বিক্ষোভ করে...

২০২৬-০৭-০১ ২৩:২৩

কুড়িগ্রামে বন্যার্তদের মাঝে শুকনো খাবার তুলে দিলো প্রশাসন

সারা দেশ

কুড়িগ্রামে বন্যার্তদের মাঝে শুকনো খাবার তুলে দিলো প্রশাসন

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় তিস্তা নদী তীরবর্তী বন্যা ও ভাঙন কবলিত ১৬০ পরিবারকে শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার(১জু...

২০২৬-০৭-০১ ২৩:২১

গাইবান্ধায় কলেজ ছাত্র ফাহমিদ হত্যা মামলার দুই আসামি গ্রেফতার

সারা দেশ

গাইবান্ধায় কলেজ ছাত্র ফাহমিদ হত্যা মামলার দুই আসামি গ্রেফতার

গাইবান্ধার সদর উপজেলায় বাড়ির সীমানা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ফাহমিদ মিয়া (১৯) হত্যা মামলার আসামি বাবা -ছেলেকে গ্রেফত...

২০২৬-০৭-০১ ২৩:১৭

ফেনীতে বাজুসের মতবিনিময় সভা :  জুয়েলারি শিল্পের উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান

সারা দেশ

ফেনীতে বাজুসের মতবিনিময় সভা : জুয়েলারি শিল্পের উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ফেনী জেলা শাখার উদ্যোগে এক বিশেষ মতবিনিময় সভা বুধবার (০১ জুলাই) দুপুরে শহরের...

২০২৬-০৭-০১ ২৩:১৪