পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর প্রকাশিত শেয়ারপ্রতি আয় অনুযায়ী এ হিসাব করা হয়েছে। ৩১টি তালিকাভুক্ত ব্যাংকের মধ্যে ২৪টির তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২০টি ব্যাংক মুনাফায় থাকলেও ৪টি ব্যাংক লোকসান দিয়েছে।
লোকসানের তালিকায় ইসলামী ব্যাংক ছাড়াও রয়েছে এবি ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংক। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি লোকসান করেছে ন্যাশনাল ব্যাংক, ১ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা। আইএফআইসি ব্যাংকের লোকসান ৮৬১ কোটি টাকা এবং এবি ব্যাংকের ৮২৬ কোটি টাকা।
মুনাফায় থাকা ২০টি ব্যাংকের মোট নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪৮৫ কোটি টাকা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা। ফলে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ।
তবে মুনাফায় থাকা ব্যাংকগুলোর মধ্যে ছয়টির মুনাফা গত বছরের তুলনায় কমেছে। তুলনামূলক ভালো পারফরম্যান্স করা ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে ডাচ্–বাংলা ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক এবং উত্তরা ব্যাংক।
অন্যদিকে কিছু ব্যাংকের মুনাফা খুবই সীমিত ছিল—কয়েকটির ক্ষেত্রে প্রতি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ারের বিপরীতে মাত্র কয়েক পয়সা আয় হয়েছে।
ব্র্যাক ব্যাংক জানায়, তাদের মুনাফা বৃদ্ধির প্রধান কারণ হলো বিনিয়োগ ও সুদ আয় বৃদ্ধি। ব্যাংকটি অতিরিক্ত তারল্য সরকারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ করেও আয় বাড়িয়েছে। পাশাপাশি কমিশন, এক্সচেঞ্জ ও ব্রোকারেজ খাত থেকেও আয় বেড়েছে।
অন্যদিকে ইসলামী ব্যাংক লোকসানের কারণ হিসেবে জানিয়েছে, আমানতের বিপরীতে মুনাফা প্রদান বৃদ্ধি এবং খেলাপি বিনিয়োগ বেড়ে যাওয়ায় আয় কমে গেছে।
শেয়ারপ্রতি আয়ে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ডাচ্–বাংলা ব্যাংকের, যার আয় ৯২ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৭০ পয়সা হয়েছে। সিটি ব্যাংকের আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে ১ টাকা ৫৮ পয়সা হয়েছে।
তবে কিছু ব্যাংকের আয় কমেছে। যেমন ব্যাংক এশিয়ার আয় কমে গেছে, ঢাকা ব্যাংক ও মার্কেন্টাইল ব্যাংকের আয়ও কমেছে।
সব মিলিয়ে ব্যাংক খাতে একদিকে যেমন কিছু ব্যাংক বড় মুনাফা করছে, অন্যদিকে কয়েকটি ব্যাংক বড় লোকসানে পড়েছে—যা খাতটির ভেতরে বৈষম্য ও ব্যবস্থাপনা চ্যালেঞ্জকে আরও স্পষ্ট করছে।