জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগের অন্তর্বর্তী সরকারের নির্ধারণ করে যাওয়া কর কাঠামো অনুসরণ করেই নতুন বাজেট প্রণয়ন করতে পারে বর্তমান সরকার। একই সঙ্গে সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
আগামী ৭ জুন জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হবে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ওইদিন বিকেল ৩টায় অধিবেশন আহ্বান করেছেন। ইতোমধ্যে বাজেট প্রস্তুতির কাজ জোরেশোরে চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বিভিন্ন প্রাক-বাজেট আলোচনায় ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ ও অংশীজনদের দেওয়া প্রস্তাব পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা। আগামী অর্থবছরে এটি বাড়িয়ে তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকা করা হতে পারে। যদিও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো মূল্যস্ফীতির কারণে করমুক্ত আয়সীমা পাঁচ লাখ টাকা করার দাবি জানিয়েছে।
এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান বলেন, মূল্যস্ফীতি ও সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় বিবেচনায় করমুক্ত আয়সীমা অন্তত পাঁচ লাখ টাকা হওয়া উচিত। নারীদের ও সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য এ সীমা আরও বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
বর্তমানে সাতটি ধাপে আয়কর নির্ধারণ করা হলেও আগামী বাজেটে তা কমিয়ে ছয়টি ধাপে আনা হতে পারে। একই সঙ্গে প্রতিটি ধাপে করহার ৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে।
বর্তমান কাঠামোয় করমুক্ত সীমার পর প্রথম এক লাখ টাকায় ৫ শতাংশ কর দিতে হয়। কিন্তু নতুন প্রস্তাবে করমুক্ত সীমার পরবর্তী তিন লাখ টাকার ওপর ১০ শতাংশ কর আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে।
ফলে মধ্যবিত্ত চাকরিজীবীদের করের চাপ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মো. মোস্তাকিমের মাসিক বেতন ৬০ হাজার টাকা। তার বার্ষিক আয় সাত লাখ ২০ হাজার টাকা।
বর্তমান কর কাঠামো অনুযায়ী বিনিয়োগ রেয়াত বাদে তাকে প্রায় আট হাজার টাকা আয়কর দিতে হয়। তবে নতুন কাঠামো কার্যকর হলে একই আয়ের জন্য তাকে প্রায় ১০ হাজার ৫০০ টাকা কর দিতে হতে পারে। অর্থাৎ কর বাড়বে প্রায় আড়াই হাজার টাকা।
প্রথমবার আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া ব্যক্তিদের জন্য কিছুটা স্বস্তির ব্যবস্থা রাখা হতে পারে। নতুন করদাতারা আয়ের ভিত্তিতে সর্বনিম্ন এক হাজার থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকার মধ্যে কর পরিশোধের সুযোগ পাবেন।
করভীতি কমানো এবং নতুন করদাতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে এনবিআর সূত্র।