রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহটি ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
মরদেহ উদ্ধারের পর একটি জাতীয় গণমাধ্যমকে ফোনে ওবায়দুর রহমান বলেন, মরিয়ম তাঁর কাছে মেয়ের মতো ছিলেন এবং তাঁর লেখাপড়ার খরচও তিনি বহন করতেন। মরিয়মের মৃত্যুতে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত বলেও জানান।
মরিয়মের মৃত্যুর আগে তাঁর সঙ্গে কী ঘটেছিল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন কি না কিংবা পারিবারিক কোনো বিরোধ ছিল কি না—এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ওবায়দুর রহমান বলেন, ওই ঘটনার পর তিনি তাঁদের সঙ্গে আর যোগাযোগ রাখেননি।
তবে ওবায়দুর রহমান দাবি করেন, গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে জোর করে হয়েছিল। গাজী নজরুলের কিছু কর্মকাণ্ডও মরিয়ম মেনে নিতে পারেননি বলে দাবি করেন তিনি। এসব বক্তব্যের স্বাধীন সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি।
এদিকে মরিয়মের মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা ও দাবি ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে ছড়িয়ে পড়া একটি ব্যক্তিগত ভিডিওকে কেন্দ্র করে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন—এমন দাবিও করা হচ্ছে। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।
গাজী নজরুল ইসলাম চলতি বছরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। গত জুলাইয়ে তাঁর একটি ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। পরে তিনি জানান, ভিডিওতে থাকা তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন। এরপর ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামী তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করে এবং তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়।
মরিয়মের মরদেহ উদ্ধারের পর গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামকে থানায় নেওয়া হয়। পরে মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ওই মামলায় গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিন এবং তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত।
মরিয়মের মৃত্যু আত্মহত্যা, হত্যাকাণ্ড নাকি অন্য কোনো কারণে হয়েছে, সে বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। মৃত্যুর পেছনে কারও প্ররোচনা বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ছিল কি না, সেটিও তদন্তের বিষয়।