সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন মিরপুর বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) সালেহ্ মুহম্মদ জাকারিয়া।
তিনি জানান, গত শনিবার (৩ অক্টোবর) রাতে মিরপুর-১ নম্বরে ওই শিশুকে মারধর করেন রিপন মন্ডল। পরে তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে নির্যাতনের শিকার শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এডিসি সালেহ্ মুহম্মদ জাকারিয়া বলেন, আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে। যে কোনো ধরনের নির্মমতার ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে। এ ধরনের ঘটনায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
এর আগে রোববার (৪ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুটিকে মারধরের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি শিশুটিকে মারধর করছেন। শিশুটি নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করলেও তাকে ছাড় দেওয়া হয়নি। একপর্যায়ে আশপাশে থাকা একজন ব্যক্তি এগিয়ে এসে শিশুটিকে রক্ষার চেষ্টা করেন। পরে ঘটনাটি ধারণ করা ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
পথশিশুদের নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবীদের ভাষ্য, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় খাবার, আশ্রয় ও নিরাপত্তার সংকটে দিন কাটায় অনেক পথশিশু। পরিবার থেকে বিচ্ছিন্নতা ও দারিদ্র্যসহ নানা কারণে তাদের অনেকে রাস্তায় ঘুমায় এবং খাবারের জন্য মানুষের সহায়তা কিংবা বিভিন্নভাবে সংগ্রহ করা খাবারের ওপর নির্ভরশীল।
তাদের মতে, কোনো শিশু খাবার নেওয়ার ঘটনায় জড়িয়ে পড়লেও তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের সুযোগ নেই। শিশুর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে আইনগত প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এ ঘটনায় রিপন মন্ডলকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার পাশাপাশি শিশুটির চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এ ধরনের ঘটনায় আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।