রোববার (৪ অক্টোবর) বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহ উপলক্ষ্যে নগর ভবন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক ‘শিশু আনন্দমেলায়’ উপস্থিত হয়ে শিশুদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।
প্রশ্নোত্তর পর্বে শিশুদের পথচলা নিরাপদ করা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ বাড়ানো এবং জলাবদ্ধতা নিরসনসহ ঢাকা শহরের সামগ্রিক উন্নয়নে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা ও উদ্যোগের কথা জানান ডিএসসিসি প্রশাসক।
ফুটপাত দখলমুক্ত করার বিষয়ে প্রশাসক বলেন, সড়কে কোনো হকার বসতে দেওয়া হবে না। তবে পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন না ঘটিয়ে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় হকারদের পুনর্বাসনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে শিশুদের জন্য জেব্রা ক্রসিং তৈরি এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সিটি করপোরেশন সার্বিক সহযোগিতা করবে বলে জানান তিনি।
শিশুদের শারীরিক বিকাশের ওপর জোর দিয়ে প্রশাসক জানান, প্রতিটি ওয়ার্ডে অথবা যৌথভাবে দুটি ওয়ার্ডের জন্য একটি করে খেলার মাঠ তৈরির চেষ্টা চলছে। বিদ্যমান মাঠগুলোর উন্নয়ন, টার্ফ স্থাপন এবং পরিত্যক্ত জায়গাগুলোকে উপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া, শহীদ জিয়া শিশু পার্কের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, খেলার সরঞ্জাম এলেই এটি চালু করা হবে। পাশাপাশি ওসমানী উদ্যান, মতিউর পার্কসহ বিভিন্ন স্থানকে নতুন করে সাজানো হচ্ছে।
ঢাকা শহরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে পরিচয় করিয়ে দিতে প্রতি শুক্র ও শনিবার দুটি বাসে বিনামূল্যে ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলো (যেমন : শহীদ মিনার, আহসান মঞ্জিল, লালবাগের কেল্লা, কার্জন হল) ঘুরিয়ে দেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এ কার্যক্রমে শিশুদের দুপুরের খাবারও সরবরাহ করা হবে। এছাড়া, শিশুদের মানসিক বিকাশে নাট্য উৎসব আয়োজন এবং বন্ধ থাকা সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলো সংস্কারের কথা জানান প্রশাসক।
আসন্ন বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে একটি বিশেষ রচনা প্রতিযোগিতা আয়োজনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থীর পুরো শিক্ষাজীবনের দায়িত্ব সিটি করপোরেশন নেবে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীদেরও আকর্ষণীয় পুরস্কার দেওয়া হবে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে শুক্রবার কোচিং বন্ধ রাখার বিষয়ে সেমিনার আয়োজন করে সংশ্লিষ্টদের মতামত নেওয়া হবে।
জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে মো. আবদুস সালাম বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও নালায় পলিথিন ফেলার কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। ডিএসসিসি ইতোমধ্যে ৩৪টি জলাবদ্ধতাপ্রবণ স্থান চিহ্নিত করেছে। অপরিশোধিত পানি সরাসরি নদীতে না ফেলে পরিশোধনের মাধ্যমে নিষ্কাশনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা চলছে। আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।