উদ্বোধনী ম্যাচ হওয়ায় শুরু থেকেই দুই দলই ছিল সতর্ক, তবে আক্রমণাত্মক মনোভাবও স্পষ্ট ছিল। ২০১০ সালের বিশ্বকাপেও এই দুই দল উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল এবং সেই ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল। ১৬ বছর পর আবারও একই প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ায় ম্যাচটি ঘিরে তৈরি হয়েছে আলাদা আবেগ ও আগ্রহ।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা মেক্সিকো নিজেদের ঘরের মাঠে শুরু থেকেই আধিপত্য দেখানোর চেষ্টা করে। কোচ হাভিয়ের আগুইরের অধীনে দলটি দীর্ঘ সময় ধরে ভালো ফর্মে রয়েছে এবং প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে তারা অপরাজিত ছিল।
মেক্সিকোর আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড রাউল হিমেনেজ। তার অভিজ্ঞতা এবং ফিনিশিং দক্ষতার ওপর ভর করে দলটি প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে চাপ তৈরি করে। তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে গড়া এই মেক্সিকো দল নিজেদের ঘরের দর্শকদের সামনে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামে।
দক্ষিণ আফ্রিকা দীর্ঘ সময় পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে ফিরে এসেছে। ২০১০ সালের পর এই প্রথম তারা বিশ্বকাপে খেলছে, যা তাদের জন্য এক বড় প্রত্যাবর্তন। কোচ হুগো ব্রুসের অধীনে দলটি কিছুটা অনিয়মিত পারফরম্যান্স নিয়ে টুর্নামেন্টে এলেও তাদের লড়াকু মানসিকতা বরাবরই শক্তিশালী।
দলের আক্রমণভাগের মূল ভরসা লাইল ফস্টার, যিনি চোট কাটিয়ে দলে ফিরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তবে প্রস্তুতির শেষ দিকে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ছিটকে যাওয়ায় দলটি কিছুটা চাপে আছে। তবুও বড় দলের বিপক্ষে লড়াই করার মানসিকতা নিয়েই মাঠে নামে দক্ষিণ আফ্রিকা।
মেক্সিকো সিটির এস্তাদিও আস্তেকা দীর্ঘদিন ধরে স্বাগতিকদের জন্য এক অদম্য দুর্গ হিসেবে পরিচিত। বড় ম্যাচে এখানে মেক্সিকোকে হারানো প্রতিপক্ষদের জন্য সবসময়ই কঠিন কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই ঐতিহ্য ও হোম রেকর্ড এবারও মেক্সিকোর আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।
উদ্বোধনী ম্যাচ হওয়ায় এই লড়াই দুই দলের জন্য শুধু তিন পয়েন্টের লড়াই নয়, বরং পুরো টুর্নামেন্টের মানসিক ভিত গড়ে দেওয়ার ম্যাচ। মেক্সিকো চাইছে ঘরের মাঠে দর্শকদের সামনে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করতে, আর দক্ষিণ আফ্রিকা চাইছে বড় অঘটন ঘটিয়ে বিশ্বকে চমকে দিতে।
সব মিলিয়ে শুরু থেকেই ম্যাচটি রূপ নিয়েছে টানটান উত্তেজনা, আবেগ এবং প্রত্যাশার এক দুর্দান্ত ফুটবল লড়াইয়ে, যেখানে ফলাফল নির্ধারণ করবে দুই দলের বিশ্বকাপ অভিযানের প্রাথমিক গতি।