সাওয়ান জানিয়েছেন, ইতোমধ্যেই এশিয়ার কিছু দেশে তেল ও গ্যাস ব্যবহার কমানো হয়েছে। এই চাপ ধীরে ধীরে পশ্চিম দিকে ছড়িয়ে পড়ছে এবং এপ্রিল নাগাদ ইউরোপকেও আঘাত করতে পারে। তিনি ইউরোপের সরকারগুলোকে চাহিদা নিয়ন্ত্রণ, মজুত বৃদ্ধি এবং সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য প্রস্তুতি নিতে বলেছেন।
বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে রয়েছে, কারণ ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করেছে। ব্রিটেন নেতৃত্বে এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ পুনরায় চালু করার পরিকল্পনা চলছে, যেখানে বেসামরিক মাদারশিপ থেকে মাইন শনাক্তকারী ড্রোন মোতায়েনের কথাও বিবেচনায় রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উপকূলবর্তী দ্বীপে সম্ভাব্য স্থল অভিযান চালানোর জন্য প্যারাট্রুপার প্রস্তুত রেখেছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি শান্তি আলোচনা চলছে দাবি করেছেন। তবে ইরান ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য দূতদের সঙ্গে কথা বলার জন্য রাজি নয়।
ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) দেশগুলোকে তেল ও গ্যাসের ব্যবহার কমানোর আহ্বান জানিয়েছে। এশিয়ার কিছু দেশে চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালু হয়েছে, সরকারি সফর স্থগিত হয়েছে, এয়ার কন্ডিশনিং কম ব্যবহার এবং গণপরিবহন বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সংঘাতের কারণে বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। গত চার সপ্তাহে তেল ও গ্যাসের দাম যথাক্রমে ৪০ ও ৬০ শতাংশ বেড়েছে। হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজে হামলার হুমকি পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে, ফলে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলএনজি সরবরাহ কার্যত আটকে গেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এশিয়ার দেশগুলো এখন বিকল্প জ্বালানির খোঁজে ব্যস্ত। যুক্তরাজ্যের জ্বালানি খাত সতর্ক করে জানিয়েছে, পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ সম্ভাব্য চিত্রগুলোর মধ্যে একটি, যা জুন বা জুলাই নাগাদ চরম পর্যায়ে পৌঁছতে পারে।
এদিকে ব্যাংকাররা সতর্ক করেছেন, দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি সংকট যুক্তরাজ্যকে অর্থনৈতিক মন্দার দিকে নিয়ে যেতে পারে। মরগান স্ট্যানলি জানিয়েছে, যদি জ্বালানির দাম কমানো না যায়, ব্যাংক অব ইংল্যান্ড সুদের হার বৃদ্ধি করতে পারে, যা ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ মন্দার সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।