উপজেলা প্রশাসন জানায়, গত চার–পাঁচ দিন ধরে তিস্তা নদীর পানি বাড়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে ফসলি জমি এবং নিচু এলাকার ঘরবাড়ি পানিবন্দী হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে কয়েকটি এলাকায় নদীভাঙনও দেখা দিয়েছে।
বুধবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা তাসনিমসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা বন্যা ও ভাঙনকবলিত এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেন। এ সময় ১৬০টি পরিবারের মধ্যে শুকনো খাবার, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট এবং শাকসবজির বীজ বিতরণ করা হয়।
সহায়তা বিতরণকালে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুন্নাহার সাথী, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রহমত আলী, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম লাভলু, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম ব্যাপারী, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আনিছুর রহমান লিটন, প্রেসক্লাব রাজারহাটের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস, সাধারণ সম্পাদক প্রহলাদ মন্ডল সৈকত এবং ইউপি সদস্য আব্দুল বাতেন উপস্থিত ছিলেন।
রামহরি গ্রামের স্কুলশিক্ষক মজিবর রহমান বলেন, রামহরি ও খিতাবখাঁ গ্রামে তিস্তা নদীর প্রায় দেড়শ মিটার এলাকা অরক্ষিত রয়েছে। সেখানে প্রায় অর্ধশতাধিক পরিবার বসবাস করছে। যেকোনো সময় নদীভাঙনে তাঁদের বাড়িঘর বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্য এলাকায় প্রতিরক্ষা কাজ হলেও এখানে কোনো কাজ হচ্ছে না। তাঁরা ত্রাণ নয়, ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা চান।
সরিষাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা কুলসুম বেগম শুকনো খাবার পেয়ে বলেন, ‘হামরা বানত এগল্যা পায়া খুব খুশি।’
রামহরি মৌজার ইউপি সদস্য আব্দুল বাতেন মিয়া বলেন, নদীভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এটি স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা তাসনিম বলেন, রামহরি ও খিতাবখাঁ এলাকায় তিস্তা নদীর অরক্ষিত অংশে প্রতিরক্ষা কাজের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকা বিবেচনায় ভাঙনকবলিত স্থানে দ্রুত কাজ সম্প্রসারণের আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁর মতে, সেখানে কাজ হলে মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হবে।