হাটে এবারও দেশি জাতের ছোট ও মাঝারি সাইজের গরুর চাহিদা অনেক বেশি। বড় গরুর চাহিদা তুলনামূলক কম থাকায় দুশ্চিন্তায় আছে খামারি ও চাষিরা। ক্রেতারা বলছেন গতবছরের তুলনায় এবার গরুর দাম কিছুটা বেশি।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সাপ্তাহিক এ পশু হাট ঘুরে দেখা গেছে, হাটে হাজারেরও বেশি গরু, ছাগল, ভেড়া মহিষের উপস্থিতি ঘটেছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বেপারীরা কুরবানির পশু ক্রয়ের জন্য হাটে এসেছেন। বেপারীদের সাথে খামারীদের গরু বেচা-কেনা করতে দীর্ঘক্ষণ ধরে দরকষাকষি করতে দেখা গেছে। কুরবানির পশু ও ক্রেতা বিক্রেতাদের সমাগমে হাটটি বেশ জমজমাট হয়ে উঠেছে।
হাটের বিশাল আকৃতির গরুগুলো সবার নজর কাড়লেও সাধারণ ক্রেতাদের মাঝারি সাইজের গরুতে আগ্রহ বেশি।
কুরবানির গরু কিনতে আসা রাকিবুল ইসলাম জানান, কুরবানি দেওয়ার জন্য হাটে একটি গরু কিনতে এসেছি। বাজারে গরুর দাম অনেক বেশি। একটু বড় সাইজের গরুগুলো দাম বলছে দুই লাখ টাকা। ১ লক্ষ থেকে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার মধ্যে মাঝারি সাইজের একটি গরু খুঁজছি। কিন্তু গরু পছন্দ হলে দেড় লক্ষ টাকার নিচে দাম বলছে না।
খামারি জামাল হোসেন বলেন, কুরবানির জন্য ফার্মে ৮ টি গরু পালছিলাম। আজকে ৪ টি গরু হাটে নিয়ে এসেছি। গরুর দাম শুনে অনেকই বলছে দাম বেশি চাওয়া হচ্ছে। এখন গোখাদ্যের দাম অনেক বেড়ে গেছে। গরু লালন পালন করতে অনেক খরচ হয়। সব কিছু হিসেব করে দাম চাওয়া হচ্ছে।
ফরিদপুর থেকে গরু কিনতে আসা বিল্লাল বেপারী বলেন, এই হাটে অনেক গরু আমদানি হয়। যার কারনে ট্রাক নিয়ে গুরু কিনতে এসেছি। ১০ টি গরু কেনা হয়েছে। আর ৫ টি গরু কিনে ঢাকায় নিয়ে যাবো। মাঝারি সাইজের গরুর চাহিদা বেশি থাকার কারনে এই ধরনের গরু বেশি কেনা হয়েছে।
কুরবানির ছাগল কিনতে আসা আলমগীর হোসেন বলেন, আজকের হাটে কুরবানি দেওয়ার উপযুক্ত প্রচুর ছাগল উঠেছে। ছাগলের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। ২০ হাজার টাকায় পছন্দমত একটি ছাগল কিনতে পেরেছি।
হাট মালিক কতৃপক্ষ জানিয়েছেন, কুরবানির ঈদের এখনো কয়েকদিন বাকি রয়েছে। যার কারনে হাটে কেনা বেচা এখনো সেভাবে বাড়েনি।অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টির বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সমসময় সতর্ক করা হচ্ছে। মেশিনের মাধ্যমে জাল টাকা পরিক্ষা করা হচ্ছে। গরুর স্বাস্থ্য পরিক্ষার জন্য উপজেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম কাজ করছে।