শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলায় মোট ১ হাজার ১৮৮ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৭২ জন সুস্থ হয়েছেন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ১১৬ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ২৯ জন এবং ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৭ জন রয়েছেন। এ ছাড়া কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ১৮, জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১, বাজিতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৮, প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫, করিমগঞ্জে ৫, কটিয়াদীতে ৪, হোসেনপুরে ৪, তাড়াইলে ৩, কুলিয়ারচরে ১ এবং পাকুন্দিয়ায় ১ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে প্রতিদিন নতুন করে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বর্ষা মৌসুমে বাড়িঘরের আশপাশে জমে থাকা পানি, ড্রেন, পরিত্যক্ত পাত্র, নির্মাণাধীন ভবনের বিভিন্ন অংশসহ নানা স্থানে এডিস মশার বংশবিস্তার নিয়ে চিন্তিত স্থানীয় বাসিন্দারা।
জেলা শহরসহ বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়নের অনেক এলাকায় পানি জমে থাকায় মশার উপদ্রব বেড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। ফলে জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা, দুর্বলতাসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিলেই অনেকে ডেঙ্গুর আশঙ্কায় দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিচ্ছেন এবং পরীক্ষা করাচ্ছেন।
জেলা শহরের বাসিন্দা আদিব হাসান বলেন, প্রতিদিন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হওয়ার খবর শুনে আমরা চিন্তিত। বাড়ির আশপাশে যাতে পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে নিজেদের পক্ষ থেকে চেষ্টা করছি। তবে মশা নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও কার্যকর উদ্যোগ দরকার।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সবুজ মিয়ার এক স্বজন বলেন, জ্বর হওয়ার পর পরীক্ষা করালে ডেঙ্গু ধরা পড়ে। এরপর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এখানে আরও অনেক ডেঙ্গু রোগী দেখছি। এতে স্বাভাবিকভাবেই ভয় তৈরি হচ্ছে।
শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, সরকারি গাইডলাইন অনুযায়ী ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। জ্বর বা শরীর ব্যথা হলে দ্রুত পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক বা অন্য কোনো ওষুধ সেবন করা উচিত নয়। ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা ও পানি জমতে না দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সবাইকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি বাড়ির আশপাশে পানি জমতে না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।