বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মৃণাল কান্তি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুর ২টার দিকে বিদ্যালয়ের ছুটি হয়। এরপর শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিদ্যালয়ের নির্মাণকাজে নিয়োজিত কয়েকজন শ্রমিক একটি বাথরুমের ভেতর থেকে অস্বাভাবিক শব্দ শুনতে পান। কাছে গিয়ে নারীকণ্ঠের গোঙানি শুনে তাঁদের সন্দেহ হয়। পরে বাথরুমটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ দেখতে পেয়ে তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন তাঁরা।
ভেতরে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় তাকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে শ্রমিকরা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসক মফিজুর রহমান শাফিনের চেম্বারে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে তাকে খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তার মায়ের দাবি, স্কুল ছুটির পর বাথরুমে ঢোকার সময় পেছন থেকে কেউ তাঁর মেয়ের মাথায় আঘাত করে। এতে সে মাটিতে পড়ে গেলে দুর্বৃত্তরা তার হাত-পা ও মুখ বেঁধে বাথরুমে রেখে যায়। তাঁর আরও অভিযোগ, মেয়ের শরীরে ইনজেকশন পুশ করা হয়েছে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্লেড দিয়ে কাটার চিহ্ন রয়েছে।
তবে ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে এবং এর পেছনে কারা জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাওলাদার সানোয়ার হোসাইন মাসুম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, স্কুল ছুটির পর বাথরুমের কাছে দুজন ব্যক্তি ওত পেতে ছিল। শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা চলে যাওয়ার সময় ওই ছাত্রীকে একা পেয়ে তারা বাথরুমের ভেতরে নিয়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখানে তার মাথায় আঘাত করার পর অচেতন অবস্থায় মুখে টেপ লাগিয়ে হাত-পা বেঁধে তাকে ফেলে রাখা হয়।
ওসি বলেন, পরে জ্ঞান ফিরলে ছাত্রীটি শব্দ করতে থাকে। সেই শব্দ শুনেই নির্মাণশ্রমিকরা এগিয়ে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন।
পুলিশ জানায়, উদ্ধারের পর ছাত্রীটি স্বজনদের কাছে কিছু কথা বলেছে। সে হামলাকারীদের কাউকে চেনে না বলে জানিয়েছে। তবে তার বক্তব্যে কয়েক বছর আগে তার বাবা একটি এনজিও পরিচালনার সময়কার টাকা-পয়সা নিয়ে বিরোধের বিষয়টি উঠে এসেছে। ওই বিরোধের জেরে ঘটনাটি ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ওসি আরও বলেন, ছাত্রীটির সঙ্গে কোনো ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কি না, তা পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ ও বিদ্যালয় এবং আশপাশের এলাকায় তদন্ত চলছে।
খবর পেয়ে দিঘলিয়ার মাঝিরগাতী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। পুলিশ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী, নির্মাণশ্রমিকসহ সংশ্লিষ্টদের তথ্য সংগ্রহ করছে।
ওসি হাওলাদার সানোয়ার হোসাইন মাসুম বলেন, ‘কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনা হবে।’