পুলিশের একটি সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার নগরীর লবণচরা থানার মহিরবাড়ি খালপাড় এলাকায় একটি সুধী সমাবেশের আয়োজন করা হয়। ওই সমাবেশে স্থানীয়রা অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারকে জানায়, গত দুই বছরে খুলনায় একাধিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাদের হাতে খুন হয়েছে ৮৯ জন। গুলি ও কুপিয়ে জখমের ঘটনা ঘটেছে শতাধিক। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটছে লবণচরা থানা এলাকায়। মহিরবাড়ি খালপাড়ও অপরাধ প্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। একের পর এক অপরাধ সংঘটিত হলেও আতঙ্কে স্থানীয় মানুষ থানায় কোনো অভিযোগ করেন না। আবার পুলিশ একাধিক অভিযান চালালেও কেউ ধরা পড়ে না। এজন্য ওই এলাকার বিভিন্ন মোড়ে স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন করে পুলিশ।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যক্তি বলেন, এই এলাকার ঘরে ঘরে অস্ত্র, সন্ত্রাসী।
কার দুটো মাথা যে পুলিশকে তথ্য দেবে? আবার পুলিশের মধ্যে সন্ত্রাসীদের লোক রয়েছে। পুলিশকে তথ্য দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সন্ত্রাসীদের জানিয়ে দেয়। যার কারণে এই এলাকায় পুলিশ কয়েকটি অভিযান চালালেও একজন সন্ত্রাসীও ধরা পড়ে না।
ওই ব্যক্তি আরও জানান, সভায় পুলিশ কর্মকর্তারা তাদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ করেন। তখন কয়েকজন বলে ওঠেন তথ্য দিলে পুলিশই সেটা ফাঁস করে দেয়। আগে পুলিশ অফিসারদের ভালো হওয়ার পরামর্শ দেন সবাই।
এর প্রেক্ষিতে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘দারোগা বা ইনস্পেক্টরকে বলার পর কোনো তথ্য যদি ফাঁস হয়, আমি মুসলমান হিসেবে কথা দিচ্ছি আমি ইনস্পেক্টরকে ঝুলায় দেব। আপনারা পিটায় মারবেন। আপনারা গোপন তথ্য দিবেন, আল্লাহ ছাড়া কেউ জানলে আমি কথা দিচ্ছি গাছের সঙ্গে ঝুলাইয়া পিটাবো।’
অপরদিকে এ ঘটনার পর বাংলাদেশ পুলিশ এসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এক যৌথ বিবৃতি দেন। এতে বলা হয়, পুলিশ বাহিনীর সকল সদস্য ও কর্মকর্তার বক্তব্যে সর্বদা পেশাদারিত্ব, সংযম ও প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যবোধের প্রতিফলন থাকা বাঞ্ছনীয়। জনসম্মুখে প্রদত্ত যেকোনো বক্তব্য এমন হওয়া উচিত, যা বাহিনীর মর্যাদা, শৃঙ্খলা ও জনগণের আস্থাকে আরও সুদৃঢ় করে। এসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা আশা করেন, ভাবিষ্যতে সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যগণ বক্তব্য প্রদানকালে আরও সতর্কতা, সংযম ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবেন, যাতে পুলিশ বাহিনীর মর্যাদা, ঐক্য, শৃঙ্খলা ও পেশাদার ভাবমূর্তি আরও সুদৃঢ় হয়। বাহিনীর সর্বস্তরের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান, পেশাদারিত্ব ও ইতিবাচক কর্মপরিবেশ বজায় রাখার আহবান জানানো হয়।