নিয়োগ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মেজবাহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ প্রদানের অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা, যার ফলে পুরো শুমারি কার্যক্রম ও তথ্যের সুরক্ষা ঝুঁকিতে পড়তে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় দেখা যায়, তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে ১০০২ নম্বর রোলধারী তানিয়া আক্তার মনোনীত হয়েছেন, যিনি কালুখালী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাগর মণ্ডলের বোন। এছাড়া সুপারভাইজার পদের চূড়ান্ত তালিকায় ১৫৫৯ নম্বর রোলে কালিকাপুর গ্রামের স্বপন কুমার বিশ্বাসের ছেলে সুমন কুমার বিশ্বাসের নাম রয়েছে। এলাকা সূত্রে জানা গেছে, পাংশা জর্জ স্কুল, কলেজ ও ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজে অধ্যয়নকালে সুমন ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। অন্যদিকে, ১৫৫১ নম্বর রোলে স্থান পাওয়া গতমপুর গ্রামের আফজাল মণ্ডলের মেয়ে আফরোজা সুলতানা এবং তার বাবা উভয়েই পূর্বে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন বলে জানা যায়।
চূড়ান্ত তালিকায় প্রকাশিত ৭০ জন সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারীর অধিকাংশই আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তারা জানান, ফ্যামিলি কার্ডে নাগরিকদের ব্যক্তিগত ও স্পর্শকাতর তথ্য সংগ্রহের সুযোগ রয়েছে। ফলে বিতর্কিত ও রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট ব্যক্তিরা এই দায়িত্বে যুক্ত থাকলে তথ্যের সঠিকতা, বস্তুনিষ্ঠতা এবং নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে স্থানীয় সচেতন মহল।
স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ যাচাই-বাছাইয়ের তোয়াক্কা না করে যোগ্য আবেদনকারীদের বঞ্চিত করায় পুরো উপজেলা জুড়ে ব্যাপক সমালোচনা ও আলোচনার ঝড় উঠেছে। সরকারি এই গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং তথ্যের নিরপেক্ষতা রক্ষায় বিতর্কিত নিয়োগ তালিকা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একইসাথে বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক নিরপেক্ষ, মেধাভিত্তিক ও যোগ্য জনবল নিয়োগের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।