২০২২ সালে বিগত সরকারের রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে বহিরাগত ব্যক্তিদের মাধ্যমে একটি নারী ঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করে শত্রুতার জেরে মন্নু বিশ্বাস একজন সিনিয়র শিক্ষককে বাসা হতে অপহরণ করিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করেন এবং নির্যাতন করেন। পরবর্তীতে এ বিষয়ে মন্নু ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে থানায় এবং পুলিশ সুপার এর নিকট অভিযোগ দায়ের হলে মন্নু বিশ্বাস ও তার সহযোগীরা লিখিত মুচলেকা প্রদান করেন, চাঁদার টাকা ফেরত প্রদান করেন এবং অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। মন্নু বিশ্বাস ও তার সহযোগীদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, ঘটনা এবং অপরাধের বর্ণনা সহ শিক্ষক পরিষদের সভায় লিখিত রেজুলেশন করা হয় যে রেজুলেশনে অধ্যক্ষ সহ কলেজের সকল শিক্ষকের স্বাক্ষর রয়েছে।
অবস্হা খারাপ আচ করে মন্নু বিশ্বাস তৎকালীন সরকার দলীয় প্রভাব কাজে লাগিয়ে শিক্ষক অপহরণ ও চাঁদাবাজির বিষয়টি ধামাচাপা দেন।
নিয়াজ মাহমুদ ভিকু নামে নড়াইলের সুপরিচিত একজন ব্যক্তি তাঁর নিজস্ব ফেসবুক একাউন্টে জুলাই শহিদ দিবস বিষয়ক অফিস আদেশটি পোস্ট করলে নড়াইলের সর্বস্তরের মানুষ বিভিন্ন নেতিবাচক মন্তব্য করেন এবং জেলা জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়।
উল্লেখ্য বিগত সরকারের আমলে চাকুরী পাওয়া মন্নু বিশ্বাস তৎকালীন মাগুরার এক এমপিকে ঘুষ প্রদানের মাধ্যমে বিসিএস এ সুপারিশ প্রাপ্ত হয়েছিলেন মর্মে অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের সাথে সাথে নিজের চাচা শ্বশুর সাবেক একজন এমপির এপিএস এই পরিচয় ব্যবহার করে রুপ বদলানোর চেষ্টা করেন মন্নু বিশ্বাস।
উল্লেখ্য মন্নু বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অধ্যক্ষ আকবর আহম্মদকে ম্যানেজ করে পর পর তিন বছর কলেজে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় লাভ জনক কমিটিতে থাকা, প্রাইভেট বাণিজ্য, নিজ স্ত্রীকে নকলে সহায়তা, ব্যবহারিক পরীক্ষার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, একজন শিক্ষক হয়ে যত্রতত্র ধূমপান, গ্রুপিং সৃষ্টি করে কলেজের পরিবেশ নষ্ট সহ বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে মন্নু বিশ্বাসকে প্রশ্রয় দেওয়া ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আকবর আহম্মদ বিগত সরকারের সময়ে নিজের শ্বশুরবাড়ির রাজনৈতিক প্রভাবে প্রায় ০২ বছর লোহাগড়া সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ছিলেন । লোহাগড়া, নড়াইল হতে বাগেরহাট শাস্তিমূলক বদলির মাত্র ১ সপ্তাহের মাঝে তৎকালীন সরকার দলীয় প্রভাবে বদলি আদেশ সংশোধন করে নড়াইল সরকারি মহিলা কলেজে যোগদান করেন।
নড়াইল সরকারি মহিলা কলেজে অধ্যক্ষ পদ লাভের আশায় তৎকালীন নড়াইল ২ আসনের এমপি-র বাসভবন ও তাঁর মামার বাসায় একাধিকবার তদবির করতে গিয়েছিলেন আকবর আহম্মদ অথচ দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর আকবর আহম্মদ নিজের রুপ বদলে নতুন করে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় যাওয়ার জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করছেন।
তিনি একজন শিক্ষক হয়েও যখন যে দল ক্ষমতায় আসে তখন সেই দলের আনুকূল্য পাবার আশায় নড়াইলের স্হানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকেন এবং ফেসবুকে রাজনৈতিক মতাদর্শন প্রচার করেন। সম্প্রতি তিনি অধ্যক্ষ পদের জন্য ডিও লেটার সহ সুপারিশ প্রাপ্তির জন্য চেষ্টা করেন এবং যে কোন মূল্যে নড়াইল সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ হবেন মর্মে প্রচার করছেন । আকবর আহম্মদ এবং মন্নু বিশ্বাস কলেজে একটি সিন্ডিকেট তৈরী করেছেন। সিন্ডিকেটের সদস্যদের নানা অপকর্ম বিষয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন পত্রিকায় ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। অতি সম্প্রতি কলেজের একজন নারী সহকর্মী প্রেস কনফারেন্স করতে বাধ্য হয়েছেন আকবর এবং তার সিন্ডিকেটের অত্যাচারে যা ফেসবুকে নিন্দার ঝড় তোলে। কলেজের প্রধান সহকারি শেখ আব্দুল আলিম যিনি অবসর প্রাপ্ত হলেও কলেজে কর্মরত, সদ্য সাবেক শিক্ষক পরিষদ সম্পাদক পিযুষ কুমার দাস, শিক্ষক সবুজ কুমার হালদার আকবর আহম্মদ এর সকল অপকর্মের সহযোগী এবং সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্য।
উল্লেখ্য সিন্ডিকেটের সদস্যদের বিরুদ্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হয়ে শাস্তির সুপারিশ হলেও অদ্যাবধি তা কার্যকর হয়নি। সম্প্রতি শাস্তির সুপারিশ সহ সেই তদন্ত প্রতিবেদনটি ফেসবুকে ভাইরাল হলে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। আকবর আহম্মদের ছত্র ছায়ায় শিক্ষক পিযুস কুমার দাস এর বিরুদ্ধে সকল অপকর্মের মূল পরিকল্পনাকারী ও গ্রুপিং এর অভিযোগ, সবুজ কুমার দাস এর বিরুদ্ধে ছাত্রীদের উপবৃত্তির টাকা নিজ মোবাইল একাউন্টে আত্মসাৎ, প্রধান সহকারি শেখ আব্দুল আলিমের বিরুদ্ধে কলেজের মালামাল চুরির অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি আকবর আহম্মদ কলেজের রড, ইট সহ নির্মান সামগ্রি বিনা টেন্ডারে বিক্রয় করেন, কলেজের জীবন্ত গাছ কাটেন এবং নিউজ ভাইরাল হলে কিছু টাকা কোষাগারে জমা করে ধামাচাপা দেন, কলেজে অনুষ্ঠিত প্রতিটি পরীক্ষা হতে অবৈধ কমিশন গ্রহন করেন, শিক্ষক কর্মচারীদের সাথে খারাপ আচরণ সহ শিক্ষকদের বদলি হতে বাধ্য করেন। আকবর আহম্মদ জমির ব্যবসা করেন এবং অফিস চলাকালীন জমিজমা বিষয়ে বহিরাগত লোকজন কলেজে এনে পরিবেশ নষ্ট করেন। বহিরাগত ব্যক্তিদের দ্বারা সাধারণ শিক্ষকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।
বিধি মোতাবেক কলেজের নব গঠিত শিক্ষক পরিষদকে যথাযথ মূল্যায়ণ বা পরামর্শ না করে মন্নুর পরামর্শে কলেজের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন আকবর আহম্মদ।
আকবর - মন্নু সিন্ডিকেট বর্তমান শিক্ষা বান্ধন সরকারের সুনাম নানা ভাবে নষ্ট করছেন।