শুনানিতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক মো. রায়হানুর রহমান জানান, মামলার প্রধান আসামি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। তবে ডিবি পুলিশের তৎপরতায় তার অবস্থান নির্ণয় করা হয় এবং বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছেন, যা মামলার রহস্য উদঘাটন ও পলাতক অন্যান্য আসামিদের শনাক্তকরণে সাহায্য করবে।
মামলার পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী আদালতে বলেন, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ১/১১ সময়ে অবৈধভাবে ব্যবসায়ীদের নির্যাতন ও অর্থ আদায়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। “মাইনাস টু ফর্মুলা” নামে একটি পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিনি এমনও চেষ্টা করেছিলেন যে জিয়া পরিবারকেই শেষ করে দেওয়া হোক। পরবর্তীতে, যাকে (তারেক জিয়া) তিনি হত্যা করার চেষ্টা করেছিলেন, তিনিই বর্তমানে দেশের প্রধানমন্ত্রী।
ফারুকী আরও জানান, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী বিদেশে লোক পাঠানোর নামে ২৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া ট্রুথ কমিশন গঠন করে ব্যবসায়ীদের ধরে এনে নির্যাতন করতেন এবং ক্ষমা করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আদায় করতেন। রাজনৈতিক নেতাদেরকেও তিনি ধরপাকড় ও নির্যাতনের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ব্যবহার করতেন।
আদালতে তাকে বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে হাজির করা হয় এবং কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ৫টা ১৮ মিনিটে রিমান্ড শুনানির জন্য আদালতে তোলা হয়। ডিবি পুলিশ তার জিজ্ঞাসাবাদে মূল অপরাধী চক্র ও আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধার, অন্যান্য পলাতক আসামি গ্রেপ্তার ও মামলার তদন্তকে এগিয়ে নেবার প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করে, যা আদালত মঞ্জুর করেছেন।