মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল থেকে আজ বুধবার (২৯ এপ্রিল) পর্যন্ত টানা ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে কুমিল্লায়। মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ১০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে বুধবার সকালে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৬.২ মিলিমটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যা মঙ্গলবারের তুলনায় অনেকটা কম। তবে মাত্রা কম থাকলেও কুমিল্লায় বুধবার সকাল থেকে একটানা বৃষ্টি ও হালকা ঝড়ো হাওয়া বইছে।
এদিকে টানা ঝড়-বৃষ্টির ফলে জেলার ১৭টি উপজেলার কৃষি ও বিদ্যুতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১৭ উপজেলার মোট ১ হাজার ৭৩৩ হেক্টর ফসলের ক্ষতি হয়েছে। তার মধ্যে ভুট্টা ৫৫০ হেক্টর, গ্রীষ্মকালীন সবজি ৩৬৪ হেক্টর এবং ৯১ হেক্টর তিলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলাজুড়ে ১ লাখ ৭২ হাজার ২১৫ হেক্টর জমিতে বুরো ধান চাষাবাদ হলেও তারমধ্যে ২৩ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। বেশিরভাগ ধান পেকে যাওয়ায় চলমান কালবৈশাখী ঝড়ে ধানে তেমন ক্ষতি দেখছে না কৃষি অফিস।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুমিল্লার উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, বৃষ্টিতে ধানের তেমন সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তবে বৃষ্টির পানি যদি বেশ কিছুদিন আটকে থাকে তাহলে পঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা আশা করছি এই ঝড়বৃষ্টি বেশিদিন থাকবে না। কৃষকদের সবসময় আমরা অনুরোধ করি ধান যদি ৮০ ভাগ পেকে যায় তাহলে কেটে ফেলার জন্য। কিন্তু কৃষকরা শতভাগ পাকার জন্য অপেক্ষা করেন আর প্রতিবছর ঝড়বৃষ্টির মুখে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হন।