নাগরিকের আইনগত পরিচয় ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি, জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট তৈরি, চাকরি, বিয়ে নিবন্ধনসহ বিভিন্ন সরকারি ও নাগরিকসেবা গ্রহণে জন্মনিবন্ধনের প্রয়োজন হয়।
জন্মের পর শিশুর নাম, জন্মতারিখ, জন্মস্থান এবং বাবা-মায়ের নামসহ প্রয়োজনীয় তথ্য নির্ভুলভাবে নিবন্ধন করা গুরুত্বপূর্ণ। নিবন্ধনে ভুল বা অসঙ্গতি থাকলে পরবর্তী সময়ে জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট কিংবা শিক্ষাগত সনদে তথ্যের অমিল তৈরি হয়ে প্রশাসনিক জটিলতায় পড়তে পারেন নাগরিকরা।
অন্যদিকে, কোনো নাগরিকের মৃত্যুর পর যথাযথভাবে মৃত্যু নিবন্ধন না হলে সম্পদ, উত্তরাধিকার ও পারিবারিক অধিকার সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে জটিলতা তৈরি হতে পারে। সঠিক মৃত্যু নিবন্ধনের মাধ্যমে সরকারি রেকর্ড হালনাগাদের পাশাপাশি উত্তরাধিকারীদের প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রমও সহজ হয়।
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের তথ্য শুধু ব্যক্তিগত ও পারিবারিক প্রয়োজনে নয়, রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। নির্ভুল তথ্যের মাধ্যমে দেশের জনসংখ্যার প্রকৃত চিত্র, জন্ম ও মৃত্যুহার এবং জনসংখ্যাগত পরিবর্তন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। এসব তথ্য কাজে লাগিয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির পরিকল্পনা করা সহজ হয়।
প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রমেও ডিজিটাল সেবা চালু হয়েছে। এতে তথ্য সংরক্ষণ ও যাচাইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি সেবার সঙ্গে তথ্যের সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে কার্যকর নিবন্ধন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নাগরিক সচেতনতা, তথ্যের নিরাপত্তা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সেবার মান বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
তাদের মতে, শুধু দিবস পালন নয়, জন্মের পর নির্ধারিত সময়ে নিবন্ধন এবং মৃত্যুর পর যথাযথভাবে মৃত্যু নিবন্ধনের বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হবে। একই সঙ্গে নিবন্ধন কার্যক্রমে হয়রানি, অনিয়ম ও দীর্ঘসূত্রতা বন্ধে কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।
দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সরকার সংস্থার উদ্যোগে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালিত হওয়ার কথা রয়েছে।
নির্ভুল জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নিশ্চিত হলে একদিকে নাগরিকের অধিকার সুরক্ষিত হবে, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় সেবা ও পরিকল্পনা আরও কার্যকর ও তথ্যভিত্তিক হবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।