শুক্রবার এক বিবৃতিতে এএফসি জানায়, ফিফার প্রস্তাবিত ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ নিয়ে তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে এবং এই বিষয়ে উয়েফা ও কনকাকাফের অবস্থানের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করছে।
কী এই ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ?
গত মঙ্গলবার ফিফা ঘোষণা দেয়, তারা ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ নামে একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠন করতে চায়। এই প্রতিষ্ঠান বিশ্বকাপ, ক্লাব বিশ্বকাপ এবং অন্যান্য ফিফা টুর্নামেন্টের সম্প্রচার স্বত্ব, স্পন্সরশিপ, টিকিট বিক্রি, লাইসেন্সিংসহ সব বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যমানের এই প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে ৪.২ বিলিয়ন ডলার তোলার লক্ষ্য ফিফার। ফিফার দাবি, এই অর্থ বিশ্বজুড়ে ফুটবল উন্নয়নে ব্যয় করা হবে এবং সদস্য দেশগুলো আরও বেশি আর্থিক সহায়তা পাবে।
ইউরোপ, লাতিন ও কনকাকাফের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এএফসি
তবে এএফসির মতে, এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে প্রয়োজনীয় ঐকমত্য ও স্বচ্ছতা ছিল না। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, ‘সাম্প্রতিক কয়েক দিনে ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ গঠনের প্রস্তাব এবং তা নিয়ে বিশ্ব ফুটবলে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে এএফসি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। ফিফার প্রধান প্রতিযোগিতাগুলোতে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার প্রস্তাব নিয়ে উয়েফা ও কনকাকাফ যে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, এএফসি তার সঙ্গে সংহতি জানাচ্ছে।’
এএফসি আরও বলেছে, বিষয়টি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে বিশ্বকাপ বয়কটের মতো সম্ভাবনাও এখন প্রকাশ্যে আলোচনা হচ্ছে, যা ফুটবলের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
এশিয়ান ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থার মতে, বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো সব মহাদেশ ও বিশ্বের সেরা ফুটবল জাতিগুলোর অংশগ্রহণ।
তাদের ভাষায়, ‘যে কোনো প্রস্তাব যদি বিশ্বকাপের ঐক্য ও সার্বজনীন চরিত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করার ঝুঁকি তৈরি করে, তাহলে সেটি পুনর্বিবেচনা করা উচিত।’ এএফসির দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে এফএফই প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার মতো প্রয়োজনীয় বৈশ্বিক ঐকমত্য নেই।
এএফসি মনে করে, এই বিতর্ক কেবল একটি প্রকল্পকে ঘিরে নয়; বরং এটি ফিফার সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও পরিচালন ব্যবস্থার মৌলিক দুর্বলতাকে সামনে এনে দিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে মহাদেশীয় কনফেডারেশন, সদস্য দেশ এবং ফিফা কাউন্সিলের সঙ্গে যথাযথ আলোচনা হওয়া উচিত ছিল।
তাদের মতে, ‘বিশ্ব ফুটবলের বাণিজ্যিক, কৌশলগত ও ক্রীড়াগত ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে—এমন কোনো প্রস্তাব এমন প্রক্রিয়ায় আসা উচিত নয়, যাতে কনফেডারেশন, সদস্য দেশ কিংবা ফিফার নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থাগুলো নিজেদের উপেক্ষিত মনে করে।’
ফিফার সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে এএফসি
এএফসি বলেছে, বর্তমান সংকটকে ফিফার জন্য একটি সংস্কারের সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত। সংস্থাটি মনে করে, গণতন্ত্র শুধু ভোট দেওয়ার সুযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সময়মতো পরামর্শ, স্বচ্ছতা, অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত এবং সুশাসনের মাধ্যমেই প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
তাই ভবিষ্যতে এ ধরনের বৈশ্বিক গুরুত্বের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ফিফাকে তার পরিচালনা কাঠামো পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে এএফসি।
বিরোধিতা ক্রমেই বাড়ছে
এর আগে উয়েফা ফিফার এই পরিকল্পনাকে ফুটবলের আত্মার বিরুদ্ধে আখ্যা দিয়ে বিশ্বকাপ বয়কটের প্রস্তাবও তোলে। ৫৫টি ইউরোপিয়ান দেশ একযোগে বিশ্বকাপ বয়কট করার ঘোষনা পর্যন্ত দেয়ার প্রস্তাব তুলেছে। পরে কনকাকাফও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করে, যদিও তারা বয়কটের পথে হাঁটেনি।
এবার এএফসিও একই অবস্থানে দাঁড়ানোয় বিশ্ব ফুটবলের ছয়টি মহাদেশীয় কনফেডারেশনের মধ্যে তিনটি প্রকাশ্যে ফিফার পরিকল্পনার বিরোধিতা করল। ফলে সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর উচ্চাভিলাষী এই প্রকল্প বাস্তবায়ন এখন আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিশ্বকাপের মতো ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসরের ভবিষ্যৎ পরিচালনা নিয়ে শুরু হওয়া এই বিতর্ক আগামী দিনগুলোতে বিশ্ব ফুটবলের রাজনীতিতে আরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।