‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবের অংশ হিসেবে আজ বিকেলে হাজারো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে শোভাযাত্রাটি পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজার থেকে শুরু হয়। বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে এটি নগর ভবনে গিয়ে শেষ হয়।
উৎসবমুখর এ শোভাযাত্রায় ঢাকার প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা, ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি, খাবার, বাহন ও নগরজীবনের নানা অনুষঙ্গ বড় ক্যানভাসে ফুটিয়ে তোলা হয়। এর মধ্যে ছিল লালবাগ কেল্লা, আহসান মঞ্জিল, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, লালকুটি, তারা মসজিদ, ঢাকেশ্বরী মন্দির, বৌদ্ধ মন্দির ও ঐতিহ্যবাহী ঢাকা গেটের প্রতিকৃতি।
শোভাযাত্রার বিশেষ আকর্ষণ ছিল ঢাকার পত্তন ও বিকাশে অবদান রাখা ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের রূপায়ণ। রানি ভিক্টোরিয়া, নবাব খাজা আহসানউল্লাহ, নীলা রায়, নিকোলাস পোগোজ, জিন্নাবাই ও পরিবিবির আদলে সাজেন অংশগ্রহণকারীরা। এতে নগরের অতীত ইতিহাস যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে।
এ ছাড়া পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী খাদ্যসংস্কৃতির বাকরখানি, নান্না বিরিয়ানি ও বিউটি লাচ্ছির প্রতিকৃতিও প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি অতীতের যাতায়াত ব্যবস্থার স্মৃতিবাহী স্টিমার, ঘোড়ার গাড়ি ও পালকির প্রদর্শনীও ছিল শোভাযাত্রার অন্যতম আকর্ষণ।
নগর ভবনে শোভাযাত্রা শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। তিনি বলেন, ঢাকার প্রতি নাগরিকদের ভালোবাসা, মমত্ববোধ ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত করতেই এ আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ঢাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য নগরবাসী ও বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে মাসব্যাপী ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। শোভাযাত্রায় নগরবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের জন্য ডিএসসিসির পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
শোভাযাত্রাকে ঘিরে পুরান ঢাকার বিভিন্ন সড়কের দুই পাশে নানা বয়সী মানুষের ভিড় জমে। বর্ণিল পোশাকে তরুণ-তরুণী ও শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে পুরো এলাকা পরিণত হয় প্রাণবন্ত উৎসবের মঞ্চে।
সূত্র: বাসস